মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প হারলে কী হবে, ক্ষমতা কি হারাবেন তিনি?
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে? প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হারলে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে নির্বাচনে হারলেই প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে হবে না ট্রাম্পকে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের (মিডটার্ম ইলেকশন) ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে আগামী দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কোন দলের হাতে। এটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নয়। বরং ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ও বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন কী?
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চার বছর পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে কংগ্রেসের সদস্য এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য যে ভোট হয়, সেটিই মধ্যবর্তী নির্বাচন।
এবার প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ৪৩৫টি এবং ১০০ সদস্যের সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কার সঙ্গে কার লড়াই?
প্রতিটি আসনে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ২১৮টি আসন। অন্যদিকে, সিনেটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫১টি আসন। তবে দুই দলের আসনসংখ্যা ৫০-৫০ হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভোটে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল রিপাবলিকানদের হাতে। দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি করে আসনের নিট সুবিধা অর্জন করতে হবে।
হারলে ট্রাম্পের কী হবে?
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হেরে গেলেও ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে হবে না। ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ রয়েছে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপে পড়তে পারেন তিনি।
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, শুনানি আয়োজন এবং বিভিন্ন নথি তলব করার ক্ষমতা পাবে। এমনকি তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়াও শুরু করতে পারে।
অন্যদিকে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে মন্ত্রিসভার সদস্য ও ফেডারেল বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প। তবে প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরাতে হলে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
অর্থাৎ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলেও প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকবেন ট্রাম্প। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তাঁর প্রশাসনের ওপর তদন্ত, নজরদারি ও রাজনৈতিক চাপ অনেক বেড়ে যেতে পারে।
সূত্রঃ রয়টার্স, এপি।