পাতলা চুল ঘন ও টাক মাথায় চুল গজাতে হলুদ ব্যবহারে ৫ পদ্ধতি

পাতলা চুল ঘন ও টাক মাথায় চুল গজাতে হলুদ ব্যবহারে ৫ পদ্ধতি

ফাইল ছবি

হলুদশুধু রান্নার মসলা কিংবা ত্বকের যত্নে ব্যবহারের উপাদান নয়, চুলের পরিচর্যাতেও এটি ব্যবহার করা হয়। হলুদে থাকা কারকিউমিন নামের উপাদানের প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

এ কারণে মাথার ত্বকের যত্নে হলুদ ব্যবহারের কথা বলেন অনেকে। তবে পাতলা চুল ঘন করা কিংবা টাক পড়া স্থানে নতুন চুল গজানোর ক্ষেত্রে হলুদের কার্যকারিতার পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

হলুদের প্রধান সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন। এর প্রদাহরোধী বৈশিষ্ট্য মাথার ত্বকের প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

এ ছাড়া হলুদের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বকের কিছু জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। তবে চুল পড়া, খুশকি কিংবা মাথার ত্বকের সংক্রমণের চিকিৎসা হিসেবে হলুদকে নির্ভরযোগ্য বিকল্প বলা যায় না।

চুলের যত্নে হলুদ ব্যবহারের পাঁচ পদ্ধতি

চুল ও মাথার ত্বকের পরিচর্যায় হলুদ ব্যবহার করতে চাইলে কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। তবে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।

অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া হলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

১. হলুদ, অলিভ অয়েল ও টকদইয়ের প্যাক

দুই চা-চামচ হলুদগুঁড়োর সঙ্গে এক চা-চামচ অলিভ অয়েল ও এক চা-চামচ টকদই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর চুলে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সংবেদনশীল মাথার ত্বকে এই প্যাক ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।

২. খুশকির সমস্যায় হলুদপানি

এক কাপ হালকা গরম পানিতে এক চা-চামচ হলুদগুঁড়ো মিশিয়ে নিতে পারেন।

শ্যাম্পু করার পর মিশ্রণটি মাথার ত্বকে অল্প করে ব্যবহার করে কয়েক মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে খুশকি দূর করতে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়। খুশকির সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৩. হলুদের তেল

আধা কাপ নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল হালকা গরম করে তাতে এক চা-চামচ হলুদগুঁড়ো মেশান। তেল ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিন। এরপর অল্প পরিমাণে চুল ও মাথার ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। তেল ব্যবহারে মাথার ত্বকে অস্বস্তি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।

৪. শ্যাম্পুর সঙ্গে হলুদ

হাতের তালুতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ শ্যাম্পু নিয়ে তাতে এক চিমটি হলুদগুঁড়ো মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এরপর স্বাভাবিক নিয়মে মাথার ত্বক পরিষ্কার করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে হলুদ শ্যাম্পুর সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুল পড়া বা খুশকি কমে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। হলুদ কাপড় ও ত্বকে হলদে দাগও ফেলতে পারে।

৫. হলুদ, পেঁয়াজের রস ও মধুর প্যাক

এক চা-চামচ হলুদগুঁড়োর সঙ্গে তিন চা-চামচ পেঁয়াজের রস এবং এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। মিশ্রণটি মাথার ত্বকে অল্প করে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। পেঁয়াজের রস চুলের যত্নে ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও চুল পড়া বন্ধ বা নতুন চুল গজানোর ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার প্রমাণ সীমিত। পেঁয়াজের রসে কারও কারও ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে।

টাক পড়লে শুধু হলুদের ওপর নির্ভর নয়

চুল পাতলা হওয়া কিংবা টাক পড়ার পেছনে বংশগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। তাই শুধু হলুদ ব্যবহার করে এসব সমস্যার সমাধান আশা করা ঠিক নয়। হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার ত্বকে চুলকানি বা টাকের মতো ফাঁকা জায়গা তৈরি হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চুল পড়ার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়াই নতুন চুল গজানো ও চুলের ঘনত্ব ধরে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।