সুরা মুতাফফিফীনে মানুষের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে
ফাইল ছবি
মানুষের জীবনে সততা ও ন্যায়পরায়ণতার গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ ব্যক্তিস্বার্থের কারণে অনেকেই অন্যের অধিকার নষ্ট করতে দ্বিধা করেন না। ব্যবসায় ওজন কম দেওয়া, পণ্যের গুণগত মান গোপন করা, কাজে ফাঁকি দেওয়া কিংবা অন্যের প্রাপ্য বুঝিয়ে না দেওয়ার মতো অনিয়ম সমাজে প্রায়ই দেখা যায়। পবিত্র কোরআনের সুরা মুতাফফিফীনে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের জন্য তুলে ধরা হয়েছে সততা, জবাবদিহি ও পরকালের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
পবিত্র কোরআনের ৮৩তম সুরা মুতাফফিফীন। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। ৩৬ আয়াতের এই সুরায় মূলত মাপে ও ওজনে কম দেওয়া এবং মানুষের অধিকার নষ্ট করার পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে। সুরাটির শুরুতেই আল্লাহ বলেন, দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা মাপে কম দেয়। যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে, কিন্তু অন্যকে মেপে বা ওজন করে দেওয়ার সময় কম দেয়। (আয়াত: ১-৩)
এই আয়াতগুলো শুধু ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততার শিক্ষা দেয়। কেউ নিজের পাওনা আদায়ে সচেষ্ট, অথচ অন্যের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে অনীহা দেখায়। কেউ নিজের অধিকার নিয়ে সোচ্চার, কিন্তু অন্যের অধিকার রক্ষায় উদাসীন। সুরাটির শিক্ষা হলো, এমন দ্বিমুখী আচরণ মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।
সুরাটিতে আরও বলা হয়েছে, মানুষ কি মনে করে না যে, তাকে পুনরুত্থিত হতে হবে এক মহাদিবসে? সেদিন সব মানুষ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে। (আয়াত: ৪-৬)
এই বক্তব্য মানুষকে পরকালের জবাবদিহির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দুনিয়ায় অন্যায় করে হয়তো সাময়িকভাবে পার পাওয়া যায়, কিন্তু আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই গোপন থাকবে না। মানুষের প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে। তাই সামান্য লাভের আশায় কারও অধিকার নষ্ট করা কিংবা প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি।
সুরাটিতে পাপাচারীদের পরিণতি এবং সৎকর্মশীলদের পুরস্কারের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে নেককারদের আমলনামা থাকবে ইল্লিয়্যিনে। (আয়াত: ৭-১৮)
আরও বলা হয়েছে, সৎকর্মশীলরা জান্নাতের নেয়ামত ভোগ করবে। তাদের মুখমণ্ডলে থাকবে প্রশান্তি ও আনন্দের আভা। তারা সিলমোহর করা উৎকৃষ্ট পানীয় পান করবে। (আয়াত: ২২-২৮)
সুরা মুতাফফীনের শেষাংশে দুনিয়ায় অপরাধীদের কাছে উপহাস ও বিদ্রূপের শিকার হওয়া মুমিনদের আখিরাতে সম্মানিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
সুরাটির অন্যতম শিক্ষা হলো, জীবনের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। শুধু ব্যবসায় নয়, পরিবার, কর্মক্ষেত্র, সামাজিক সম্পর্ক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও অন্যের অধিকার যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। মনে রাখতে হবে, মানুষের চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হলেও আল্লাহর কাছে কোনো অন্যায়ই আড়াল করা সম্ভব নয়। তাই দুনিয়ার সাময়িক লাভের চেয়ে পরকালের সফলতাকে প্রাধান্য দেওয়াই একজন মুমিনের প্রকৃত পরিচয়।