মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত ছোট-বড় নানা ভুল ও পাপাচারের সম্মুখীন হই। এই বিচ্যুতিগুলো আমাদের মহান আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং জীবনে অস্থিরতা নামিয়ে আনে। এই দূরত্ব ঘুচিয়ে আল্লাহর ভালোবাসা ও নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো ‘ইস্তেগফার’ বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
ইস্তেগফার
মুসলিম হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, মৃত্যুর পরও মা-বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। সন্তানের দোয়া ও ইস্তেগফার মৃত মা-বাবার জন্য সওয়াবের উৎস। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘মানুষ মৃত্যু বরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমল কখনো বন্ধ হয় না।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার যতগুলো পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন তার একটি হলো- সায়্যিদুল ইস্তিগফার পাঠ করা।
শবে বরাত মর্যাদাপূর্ণ একটি রাত। এই রাতে মুমিনদের জন্য ক্ষমা লাভের বিরাট সুযোগ রয়েছে। বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)
সাইয়িদুল ইস্তেগফার আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া। দোয়ার শব্দগুলোতে রয়েছে মহান আল্লাহর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা, অনুগ্রহ ও বান্দার পাপের স্বীকারোক্তি। গোলাম হিসেবে মনিবের সামনে বিনয় ও নম্রতার সুন্দর প্রকাশ। যে দোয়া ঈমানিয়াতে পরিপূর্ণ। অর্থ ও মর্ম না জানার কারণে অনেকে এই দোয়ার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারে না।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের বেশি বেশি ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার তাগিদ দিয়েছেন। কারণ তারাই উত্তম বান্দা, যারা আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও নবীজি (স.) প্রতিদিন ৭০ বারেরও বেশি তওবা ও ইস্তেগফার করতেন। (বুখারি: ৬৩০৭)
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের বেশি বেশি ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার তাগিদ দিয়েছেন। ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের জন্য তিনি পরম ক্ষমাশীল। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও।