গলার কাছে থাকা ছোট্ট একটি গ্ল্যান্ড যা দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো তাকে থাইরয়েড বলে। এই গ্ল্যান্ড থেকে নির্গত হরমোন নানা শারীরবৃত্তীয় কাজে সাহায্য করে। কিন্তু কখনো কখনো থাইরয়েড গ্ল্যান্ড খুব বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে পড়ে।
থাইরয়েড
যেসব অসুখ আমাদের শরীরে ধীরে ধীরে বাসা বাঁধতে পারে এবং একবার বাসা বাঁধলে আর শরীর থেকে চলে যায় না, তার মধ্যে অন্যতম হলো থাইরয়েড।
বর্তমানে থাইরয়েডে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এই অসুখ থেকে পরবর্তীতে আর অনেক অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থেকে যায়। তাই শুরুতেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন হলো থাইরয়েড। তবে এর মাত্রা যখন কম বা বেশি হয় তখন শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই এ হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের প্রায় ৫ কোটি মানুষের বিভিন্ন থাইরয়েড সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল এন্ড্রোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এসিইডিবি)। তবে এসব রোগীর অর্ধেকের বেশি মানুষ জানে না যে তারা এ সমস্যা ভুগছেন। এছাড়া পুরুষদের তুলনায় নারীরা চার থেকে পাঁচগুন বেশি আক্রান্ত হন বলে জানিয়েছেন থাইরয়েড বিশেষজ্ঞরা।
সকালবেলা ঘুম চোখ খুলতে না খুলতেই হাতে ওষুধ। কারণ, থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। গলা এবং ঘাড়ের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত প্রজাপতির মতো দেখতে এই গ্রন্থিটি বিভিন্ন ধরনের হরমোন নিঃসরণ এবং দেহের প্রায় সব ধরনের বিপাক প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় থাইরয়েড সচেতনতা মাস। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এ রোগের প্রকোপ যেমন বাড়ছে, তেমনি মানুষের মনেও এই রোগ (Disease) সংক্রান্ত ভুল ধারণাও তৈরি হচ্ছে।
থাইরয়েড নামক রোগটির সঙ্গে আমরা বর্তমানে কমবেশি সকলেই পরিচিত। কীভাবে বুঝবেন আপনার শরীরে থাইরয়েডের কোনও সমস্যা আদৌ আছে কি না? সাধারণত দুই ধরণের থাইরয়েড দেখা যায়। হাইপোথাইরয়েড ও হাইপারথাইরয়েড।