পিঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।মঙ্গলবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ সংক্রান্ত সভা শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
দাম নিয়ন্ত্রণ
পণ্য ও সেবার দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সঠিক পথেই আছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি বলছে, এই মুহূর্তে টাকার প্রবাহে ভারসাম্য রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে সংকোচনশীল হওয়ার বিকল্প নেই।
সবজি, মাছ, মাংসসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির কারণে বাজারে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও সবাই দুষছেন চাঁদাবাজিকে। অধিকাংশেরই অভিমত, সড়কপথে পণ্য পরিবহনে মোটা অংকের চাঁদা দিতে হয়
পথে পথে চাঁদাবাজি, অযৌক্তিক শুল্ক আরোপ ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সিন্ডিকেটের কারণে ধাপে ধাপে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫টি মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে ।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, ‘ভারত থেকে অতি শিগগিরই ২০ হাজার মেট্রিক টন পিঁয়াজ ও ৫০ হাজার মেট্রিক টন চিনি আমদানি করা হবে। এছাড়া আসন্ন রমজান মাসের আগে সকল নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।’
দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ভারত থেকে ৫২ হাজার টন পেঁয়াজ আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরইমধ্যে ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, আমরা দেখছি, দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে আমদানি করা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী ও সচিব এখন বিদেশে। গতকাল রাতেও (রোববার) মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আমার এ বিষয়ে কথা হয়েছে।
পেঁয়াজ রপ্তানির উপর ভারতের শুল্ক আরোপের অজুহাত দেখিয়ে কোন অসাধু ব্যবসায়ী যেন দাম কিংবা মজুদের ক্ষেত্রে কারসাজি করতে না পারে সেজন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার তদারকি করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক এএইচএম শফিকুজ্জামান।