বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হয়েছে গভীর নিম্নচাপ। এর জেরে বৃষ্টি হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ বেশকিছু এলাকায়।
বন্যার শঙ্কা
দেশের পূর্বাঞ্চলের ফেনী, চট্টগ্রাম ও সিলেটে স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে ফেনীতে এই মুহূর্তে বন্যার কোনো শঙ্কা নেই বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে মাত্রই কয়েকদিন আগে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার শিকার হয়েছে পূর্বাঞ্চল; বিশেষ করে ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ ১১টি জেলা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অর্ধকোটিরও বেশি মানুষ। এই বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও নতুন করে শঙ্কা জাগাচ্ছে আরেকটি বন্যা।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি মাসেও (আগস্ট) স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে বন্যার ধাক্কা সামলে ওঠার মধ্যে ফের কয়েকটি অঞ্চলে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর সঙ্গে চলতি জুলাই মাসে দেশজুড়ে নিম্নচাপ এবং বিচ্ছিন্নভাবে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় দ্বিতীয় ধাপে বাড়তে শুরু করেছে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি। এরইমধ্যে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে অনেক এলাকা পুরোপুরি ডুবে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারা নদীর পানি সামান্য কমলেও বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে সুরমা। দুই দফা বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বন্যার কবলে পড়তে যাচ্ছেন সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা।
বৃষ্টিপাত কমায় গত কিছুদিন ধরে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি ক্রমাগতভাবে কমে বন্যা পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল। কিন্তু আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের অধিকাংশ জায়গায় ভারী বর্ষণে সিলেট-সুনামগঞ্জে ফের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ফলে নদ-নদী তীরবর্তী মানুষজন এখন বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন।
ভারত-বাংলাদেশ ভূ-রাজনীতির বড় একটা নিয়ামক হয়ে আছে তিস্তার পানি বণ্টন। তিস্তার পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ভারত যে বাঁধ দিয়েছে, বছরের পর বছর তার খেসারত দিয়ে চলেছে এদেশের উত্তরের জনপদ। শুধু বাংলাদেশই নয়, এই নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বিবাদ রয়েছে ভারতেরই বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে পানির স্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আসন্ন হুমকি মোকাবিলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সতর্কতা জারি করে কিছু সুপারিশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।