বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। আগামী বছরও বাংলাদেশে একই পরিমাণ রেমিট্যান্স পাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। সাম্প্রতিক ব্যালান্স অভ পেমেন্ট সংকটের কারণে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
রেমিট্যান্স
ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা রেমিট্যান্স মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবের মাধ্যমে লেনদেনের সীমা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে, এখন থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে সরাসরি রেমিট্যান্সভোগীর কাছে পাঠানো যাবে।
ডলারের দাম কমানোর সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে প্রবাসী আয়ে। সদ্য বিদায়ী নভেম্বর মাসে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা ১৯৩ কোটি ডলারের সমমূল্যের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
চলতি নভেম্বরের প্রথম ১৭ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে ও ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১১৮ কোটি ৭৭ হাজার ডলার; বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৩ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১১১ টাকা ধরে)।
বৈধপথে দেশে বৈদেশিক আয় পাঠালে আজ থেকে ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাবেন প্রবাসীরা। সরকারের ২.৫ শতাংশ প্রণোদনার পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা দেবে ব্যাংকগুলো
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ডলারের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রবাসী আয়ের প্রতি ডলারের দাম এখন থেকে সর্বোচ্চ আড়াই শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৩ দিনে প্রতিদিন প্রবাসীরা বৈধ পথে ছয় কোটি ৯৪ হাজার ৬১৫ মার্কিন ডলার পাঠিয়ছেন।
সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে ১.৩৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে দেশে, যা ৪১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটানোর অন্যতম সহজ উপায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো। আর বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে প্রবাসীদের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করতে হবে। তাই বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো বাড়াতে প্রবাসীদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।
ফরিদপুরের বাসিন্দা জনি মিয়া (আসল নাম নয়) সৌদি আরবে মেকানিক হিসাবে কাজ করছেন গত সাত বছর ধরে।