বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
হরমুজ প্রণালি
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে আছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে জাহাজটি ওমান উপসাগর থেকে ইরানের বন্দরগুলোর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
হরমুজ প্রণালিতে একটি অস্থায়ী নৌপথ চালু করা নিয়ে ওমানের সঙ্গে ইরান চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে আরাগচি বলেন, ওমানের সঙ্গে আলোচনাটি এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি’।
ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নির্ধারণ নিয়ে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্যাংকার থেকে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় জাহাজ ও এর নাবিকেরা নিরাপদ আছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধ কার্যকর রাখতে চলমান সামুদ্রিক অভিযানে ৪৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে যৌথ বিবৃতির খসড়া চূড়ান্তের কথা জানিয়েছে ইরান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক হামলার মুখোমুখি হতে যাচ্ছিল ইরান। সবকিছু চূড়ান্ত, ঠিক তখনই কয়েকটি আরব দেশ ও খোদ তেহরানের অনুরোধে শেষ মুহূর্তে সেই হামলা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। চরম উত্তেজনার মাঝে এবার নতুন বোমা ফাটালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, চলমান আলোচনার প্রথম ধাপ হিসেবে আগামীকালই খুলে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি।
বিদ্যমান উত্তর বা দক্ষিণ রুট বাদ দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে সম্পূর্ণ নতুন এক নৌপথ চালুর পরিকল্পনা করছে ইরান ও ওমান। দুই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে একটি যৌথ সমঝোতায় পৌঁছানোর খবর দিয়েছে তেহরান।