আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন, আর তিনি উত্তম পরিণাম রেখেছেন তাকওয়ার অধিকারী খোদাভীরুদের জন্যই। তাকওয়া হলো দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ পাওয়ার মূল চাবিকাঠি।
তাকওয়া
দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর যখন শাওয়ালের চাঁদ আকাশে উদিত হয়, তখন মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে যে আনন্দের ঢেউ ওঠে, তার নামই ঈদুল ফিতর। কিন্তু এই আনন্দ কেবল বাহ্যিক নয়; এটি আত্মশুদ্ধির এক সফল যাত্রার পরিণতি, তাকওয়ার এক গভীর উপলব্ধির প্রকাশ। তাই ঈদকে বুঝতে হলে রমজানকে বুঝতে হয়, আর রমজানকে বুঝতে হলে তাকওয়ার মর্মার্থ অনুধাবন করা অপরিহার্য।
আল্লাহ তাআলার কাছে মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় কেবল ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতির ভিত্তিতে। বংশ, সম্পদ বা ক্ষমতা কোনোভাবেই মর্যাদার মানদণ্ড নয়। কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,
মানুষের জীবনে রমজান মাস আসে, আবার চলে যায়। একসময় রমজান আবার ফিরে আসবে, কিন্তু সে মানুষই আর থাকবে না।
কোরআন মজিদে মুমিনের যেসব বিষয়ের প্রতি বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে তার মধ্যে তাকওয়া অন্যতম। কারণ তাকওয়া বা আল্লাহভীতি মুমিনের অনন্য বৈশিষ্ট্য। এই বৈশিষ্ট্য অর্জন ছাড়া দুনিয়া ও আখিরাতে মুমিন কখনো সফলতা লাভ করতে পারে না।
আল্লাহ বান্দার তাকওয়াকে গুরুত্ব দেন। মুমিন সৎ বান্দা আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। ইসলাম মুমিনদের লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকার এবং সৎ জীবনযাপনের তাগিদ দিয়েছে। সৎ জীবনযাপনের কারণেই কেউ দুনিয়ার জীবনে গরিবি অবস্থার শিকার হলে তার জন্য পরকালের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
কোরবানি শব্দটি আরবি কারবুন মূল ধাতু থেকে এসেছে। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে নিকটবর্তী হওয়া, নৈকট্য লাভ করা, উৎসর্গ করা ইত্যাদি। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু জবাই করাকে কোরবানি বলে।