০৪ জুলাই, ২০২৬
কখনো কি এমন হয়েছে, কোনো কাজের জন্য আগের মতো পরিশ্রম দিচ্ছেন, ব্রেনকে খাটাচ্ছেন কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না? কিছুতেই মন দিয়ে কাজটা শেষ করতে পারছেন না। চেনা গতি কোথাও যেন হারিয়ে গেছে। মনে হচ্ছে মন যেন এক জায়গায় থমকে গেছে। এমন পরিস্থিতিকেই বলা হয় ‘ব্রেইন রট’। আক্ষরিকভাবে যার অর্থ দাঁড়ায় মস্তিষ্কে পচন ধরেছে!
চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবশ্য এই শব্দের কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে আধুনিক সমাজে ‘ব্রেইন রট’ শব্দটি বেশ চলমান বলা যায়। এইতো ২০২৪ সালেই অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস এই শব্দযুগলকে ‘ওয়ার্ড অফ দ্য ইয়ার’-এর তকমা দিয়েছিল।
এই প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, মেধাকে চ্যালেঞ্জ না করা, ভোঁতা বিষয়বস্তুতে ভরে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এমন বিষয়বস্তু দিনভর অতিরিক্ত পরিমাণে দেখার ফলে ব্যক্তিবিশেষের বোধ-বুদ্ধি এবং মেধাবৃত্তিরও প্রভূত অবনতি হচ্ছে। চিন্তাশক্তিতে আসছে আলস্য। স্পষ্ট ভাবনা-চিন্তার ক্ষমতাও কমছে দ্রুত। মস্তিষ্কের এই অবনতিকেই বলা হচ্ছে ব্রেইন রট।
যাদের ব্রেইন রটিং-এর সমস্যা হচ্ছে, তাদের যেসব সমস্যা হতে পারে—
১. মনোসংযোগের সমস্যা, কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে চিন্তা নিবদ্ধ করতে না পারা
২. স্মরণশক্তির অবনতি
৩. মানসিক ক্লান্তি বেড়ে যাওয়া
৪. কাজে অনুপ্রেরণা না পাওয়া
৫. সৃজনশীলতা ও সৃষ্টিশীলতার অভা
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যেসব অভ্যাস ব্রেইন রটের কারণ, তা দীর্ঘমেয়াদে মেধার অবনতি করতে পারে। এমনকি, এর জেরে ডিমেনশিয়াও হতে পারে। তাই মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা জরুরি। এর জন্য কিছু অভ্যাসে বদল আনা জরুরি—
টানা দীর্ঘ সময় মোবাইল বা টিভি দেখা মস্তিষ্ককে বিহ্বল করে তুলতে পারে। এতে চিন্তাশক্তিকে উন্নত করার কোনো উপাদান তো থাকেই না বরং ওই অভ্যাস মানসিক ক্লান্তিবোধ বাড়িয়ে তুলতে পারে। ধীরে ধীরে মনোসংযোগের ক্ষমতাও কমিয়ে দিতে পারে। তাই সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং, মোবাইলে সিনেমা-সিরিজ দেখার সময় নির্ধারিত করে নিতে হবে। সব মিলিয়ে দিনে ২-৩ ঘণ্টার বেশি এসব কাজে ব্যয় করা যাবে না। এর বদলে বই পড়া, শরীরচর্চার মতো কাজ বেশি করতে হবে। এতে মস্তিষ্ক উজ্জীবিত হবে বেশি।
মস্তিষ্ক পেশির মতো। নিয়মিত সঞ্চালন না করলে হারায় সক্রিয়তা। বুদ্ধির ধার বজায় রাখতে তাই এমন কাজ করুন, যা মস্তিষ্ককে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। ধাঁধার সমাধান করা, দাবা খেলা, নতুন কোনো দক্ষতা রপ্ত করা, বই পড়া, ইত্যাদি মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সক্রিয় করে। ফলে বাড়ে সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি, সৃষ্টিশীলতা।
শরীর ভালো থাকলে পরোক্ষভাবে মনও ভালো থাকবে। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। ফলে মস্তিষ্ক প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টির জোগান পায়। তাই প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টার জন্য শরীরচর্চা করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কী কী খাবার থাকছে, তার ওপর নির্ভর করে মস্তিষ্ক তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছে কি না। ঠিকমতো পুষ্টি না পেলে মস্তিষ্কে প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, মানসিক শ্রান্তিবোধ ও আসতে পারে। প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে যে খাবারগুলো খেতে পারেন—
শাকপাতা যেমন: পালং শাক
স্বাস্থ্যকর স্নেহপদার্থের জন্য বাদাম এবং দানা শস্য
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল
ক্লান্ত মস্তিষ্ক কোনো কাজই ঠিকমতো করতে পারে না। দিনের শেষে মস্তিষ্ক নিজেকে মেরামত করে, যাবতীয় স্মৃতিকে আলাদা করে সরিয়ে রেখে আবার একটা দিনের জন্য পুনরুজ্জীবিত হয় ঘুমিয়ে। আর তাই ঘুম ও বিশ্রাম না হলে মস্তিষ্ক আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। স্পষ্ট চিন্তা-ভাবনার ক্ষমতা যায় কমে।
মস্তিষ্কের বিশ্রামের জন্য ঘুমানোর নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমান। অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ডিজিটাল পর্দা থেকে চোখ সরান।