০৯ আগস্ট, ২০২১
সাধারণত বড়রা ছোটদের ওপর, শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর, ধনীরা গরিবদের ওপর, মালিকরা কর্মচারীদের ওপর, শাসকরা জনগণের ওপর জুলুম করে থাকে। যে ব্যক্তি জুলুম করে তাকে বলা হয় ‘জালিম’ আর যার প্রতি জুলুম করা হয় তাকে বলা হয় ‘মাজলুম’। নিম্নে জুলুমের ভয়াবহতা সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা উপস্থাপন করা হলো।
জুলুমের কারণে অতীতে বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সূরা ইউনুসের ১৩ নং আয়াতে বলেন, ‘আর অবশ্যই আমি বহু জাতিকে হালাক তথা ধ্বংস করে দিয়েছি তাদের জুলুমের কারণে। আর তাদের কাছে তাদের রাসূলরা সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিল, কিন্তু তারা ঈমান গ্রহণ করেনি। আর এভাবে আমি অপরাধী জাতিকে শাস্তি দিয়ে থাকি।’
জালিমদের শাস্তি প্রয়োগে কঠোরতা : জালিমদের ওপর শাস্তি কখনোই হালকা অথবা ক্ষণস্থায়ী হবে না, বরং তা হবে চিরস্থায়ী ও অত্যন্ত কঠোর। এ প্রসঙ্গে সূরা ইউনুসের ৫২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যারা জুলুম করেছে তাদেরকে বলা হবে তোমরা স্থায়ী আজাব ভোগ করো। তোমরা যা অর্জন করতে তোমাদেরকে কেবল তারই জাজা তথা প্রতিদান দেয়া হচ্ছে।’
সূরা বাকারার ১৬৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর কতই না উত্তম হতো যদি জালিমরা দুনিয়াবি কোনো শাস্তি দেখে উপলব্ধি করে নিত যে, সব ক্ষমতা শুধু আল্লাহ তায়ালার জন্য এবং নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।’
জালিমদের শাস্তি কমানো হবে না : জালিমদের শাস্তি বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। বরং তারা যে পরিমাণ জুলুম করেছে, তারই প্রতিদান দেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা সূরা নাহলের ৮৫ নং আয়াতে বলেন, ‘আর জালিমরা যখন আজাব প্রত্যক্ষ করবে, তখন তাদের থেকে বিন্দুমাত্র আজাব হ্রাস বা কমানো হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।’
আল্লাহ তায়ালা জালিমদের ব্যাপারে গাফিল নন : যারা নিত্য জুলুম-অত্যাচার করে যাচ্ছে, তারা হয়তো ভাবছে, আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাপারে গাফিল তথা অমনোযোগী। আল্লাহ তাদের জুলুম-অত্যাচার দেখছেন না। অথচ কালামে পাকে আল্লাহ বলেন, ‘আর জালিমরা যা করছে, মহান আল্লাহকে তুমি সেই বিষয়ে মোটেও গাফিল মনে করো না।আল্লাহ তো তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছেন, ওই পর্যন্ত যে, যেদিন চোখ পলকহীন তাকিয়ে থাকবে। তারা মাথা তুলে দাঁড়াতে থাকবে, তাদের দৃষ্টি নিজেদের দিকে ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য।’ (সূরা ইবরাহিম : ৪২-৪৩)
মাজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকতে হাদিসের নির্দেশনা : মাজলুমের দোয়ার মাঝে আল্লাহর মাঝে কোনো অন্তরায় নেই। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলে আকরাম সা: ইরশাদ করেন, ‘তোমরা মাজলুমের ফরিয়াদ থেকে বেঁচে থাকো (কারো ওপর জুলুম না করার মধ্যমে)। কেননা, মাজলুমের দোয়ার মাঝে আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই।’ (বুখারি-২২৮৬)
জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকার হয়ে উঠবে : কিয়ামতের দিন জুলুম হবে ঘোর তমসাচ্ছন্ন তথা কঠিন অন্ধকার। এ প্রসঙ্গে রাসূলে আকরাম সা: এর বাণী হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা: থেকে বর্ণিত রাসূলে আকরাম সা: ইরশাদ করেন, ‘জুলুম কিয়ামতের দিন ভীষণ অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে।’ (সহিহ বুখারি-২২৮৫)
কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম রক্তপাতের বিচার : কিয়ামত দিবসে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের ফায়সালা করা হবে সেটি হলো হত্যা বা রক্তপাতের। এ প্রসঙ্গে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলে আকরাম সা: ইরশাদ করেন, ‘কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে বিষয়ে বিচার ফায়সালা করা হবে, তা হবে রক্তপাতের বিচার।’ (সহিহ মুসলিম-১৬৭৮)
আসুন আমরা আল্লাহ তায়ালার আদালতে বিচারের সম্মুখীন হওয়ার আগে আল্লাহর আজাব-গজবকে ভয় করে সর্বপ্রকার জুলুম-অত্যাচার থেকে বিরত থাকি। আল্লøাহ আমাদেরকে দ্বীনের সহিহ বুঝ দান করুন, আমিন।
জাহাঙ্গীর আলম ইব্রাহীম : খতিব, বড়চাঁদপুর পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা।