আইসিডিডিআর,বি-র ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আইসিডিডিআর,বি-র ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নানা আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে আইসিডিডিআর,বি-র কর্মীদের পাশাপাশি দাতা সংস্থা, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) মহাখালী ক্যাম্পাসে আয়োজিত উৎসবে আইসিডিডিআর,বি-র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. তাহমিদ আহমেদ প্রতিষ্ঠানের অবদান তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক চতুর্থ একক-ডোজ এইচপিভি ভ্যাকসিন সেকোলিনের অনুমোদনে আইসিডিডিআর,বি-র ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। ড. তাহমিদ বলেন, এই মাইলফলকটি সার্ভিকাল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রতি দুই মিনিটে একজন নারী এই রোগে মৃত্যুবরণ করেন, এবং এর ৯০ শতাংশ মৃত্যু হয় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে।

তিনি আরও আইসিডিডিআর,বি-র বিজ্ঞানী, গবেষক এবং কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যাঁদের অবদান এই প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বব্যাপী শ্রেষ্ঠত্ব এবং স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে ‘স্থাপত্যের চেয়ে স্থাপত্য বড়: স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তোলার প্রক্রিয়া’ শীর্ষক মূল বক্তব্য দেন বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটেলমেন্টসের ডিরেক্টর জেনারেল ড. কাজী খলিদ আশরাফ। তিনি আইসিডিডিআর,বি-কে তার চমৎকার যাত্রার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এটি বিশ্বব্যাপী মর্যাদাপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান, যা স্বাস্থ্য ও উদ্ভাবনে অসামান্য অবদান রেখেছে। তিনি স্থাপত্য এবং জনস্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন এবং ঢাকা শহরের নগরায়নের সমালোচনা করে স্বাস্থ্যকর, বসবাসযোগ্য শহর গড়ার জন্য ১১টি কার্যকর ধারণা উপস্থাপন করেন।

আইসিডিডিআর,বি-র মহাখালী ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার ফার্স্ট সেক্রেটারি (উন্নয়ন-স্বাস্থ্য) মি. এডওয়ার্ডস ক্যাব্রেরাও বক্তব্য রাখেন। তিনি আইসিডিডিআর,বি-র স্বাস্থ্যখাতে অসামান্য অবদানের প্রশংসা করেন এবং বলেন, কানাডা থেকে আগত দর্শনার্থীরা সবসময় এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যতিক্রমী কাজ দেখে মুগ্ধ হন।

দিনটির আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলে আইসিডিডিআর,বি-র মহাখালী প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত একটি ফান ফেয়ারে (আনন্দমেলা)। এখানে আইসিডিডিআর,বি-র কর্মীরা বিভিন্ন পণ্য নিয়ে স্টল বসান, এবং দর্শনার্থীরা এসব পণ্য কিনে মুখরোচক খাবার খেয়ে একে অপরের সাথে মেলবন্ধনে উৎসবে অংশ নেন। এই মেলা আইসিডিডিআর,বি-র সামাজিক মেলবন্ধনের অনুভূতিকে প্রতিফলিত করে।

এরপর, সাসাকাওয়া মিলনায়তনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আইসিডিডিআর,বি-র কর্মীরা তাদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে নাটক, ম্যাজিক শো, হাস্যরসাত্মক উপস্থাপনা, ইংরেজি গান এবং বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশন হয়। অনুষ্ঠানটি ছিল হাসি-খুশি ও প্রাণবন্ত, যা আইসিডিডিআর,বি-র সৃজনশীলতা এবং প্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

আইসিডিডিআর,বি তার ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে এবং উদ্ভাবন ও শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো মোকাবেলায় এর প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছে। এই উদযাপন শুধু এর বৈজ্ঞানিক সাফল্যকেই নয়, বরং এর গতিশীল সামাজিক চেতনাকেও তুলে ধরে, যা আইসিডিডিআর,বি-র অনন্য বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন।