ফরেনসিক অডিট হচ্ছে বেক্সিমকোর ঋণের

ফরেনসিক অডিট হচ্ছে বেক্সিমকোর ঋণের

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বহুল আলোচিত-সমালোচিত বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের বিষয় খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক অডিটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। যেসব কাগজপত্র বা ডকুমেন্টের বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে  হওয়া অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে এ নিরীক্ষা চলতি মাসের মধ্যে শেষ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অবস্থিত কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের কার্যপত্র সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ফরেনসিক নিরীক্ষা হলো– কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত খতিয়ে দেখা, যার মাধ্যমে যে কোনো জালিয়াতি ও অনিয়ম খুঁজে বের করা সম্ভব। এ নিরীক্ষার পাশাপাশি বেক্সিমকো গ্রুপের রিসিভার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। কমিটির এর আগের সভায় বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের লে-অফকৃত ১৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্তের ঘোষণা টিভি স্ক্রলে প্রচারের ব্যবস্থা না করায় অর্থাৎ কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করায় রিসিভারের ভূমিকা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে রিসিভারকে সাময়িক বরখাস্তসহ তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

হাইকোর্টের নির্দেশনায় সমস্যায় জর্জরিত বেক্সিমকো গ্রুপের পতন ঠেকাতে এবং বিনিয়োগকারী, কর্মী ও ব্যাংকগুলোর স্বার্থ রক্ষায় গত ১০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. রুহুল আমিনকে প্রতিষ্ঠানটির ‘তত্ত্বাবধায়ক’ (রিসিভার) নিয়োগ দেওয়া হয়।

বৈঠকে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের লে-অফকৃত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তৃপক্ষ বন্ধ করবে বলে ফের সিদ্ধান্ত হয়। এতে শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী পাওনাদি চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই পরিশোধ করতে বলা হয়।