যশোরে নারী নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ মহিলা পরিষদের
ফাইল ছবি
যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার বেনেয়ালি গ্রামে মধ্যবয়সী নারীকে বেঁধে রেখে মারপিট, চুল কেটে দেওয়া এবং মুখে কালি মেখে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার বেনেয়ালি গ্রামে মধ্যবয়সী নারীকে বেঁধে রেখে মারপিট, চুল কেটে দেওয়া এবং মুখে কালি মেখে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ছেলের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পদ্মপুকুর গ্রামের এক তরুণীর দুই বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়েতে বনিবনা না হওয়ায় তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর ওই তরুণীর একই উপজেলার গদখালি ইউনিয়নের বেনেয়ালি গ্রামে শিমুলের সঙ্গে বিয়ে হয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি নির্যাতনের শিকার ওই নারী তার সাবেক পুত্রবধূকে দেখতে যান। এসময় ওই তরুণীর স্বামী ও বাড়ির লোকজন ওই মধ্যবয়সী নারীকে বেঁধে রেখে মারপিট করে তার মাথার চুল কেটে দেয়, তার মুখে কালি মাখিয়ে দেয় এবং বিকেল পর্যন্ত তাকে পিলারের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। সেই সঙ্গে মধ্যবয়সী এ নারীর নির্যাতনের চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি নারী ও কন্যারা প্রতিনিয়ত হত্যা, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ন্যায় নৃশংস সহিংসতার শিকার হচ্ছে। মধ্যবয়সী নারীর সঙ্গে এ ধরনের অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনায় নারীদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে পাশাপাশি নারীদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের ক্ষেত্রে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে।
বিবৃতিতে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।