গ্যাস–সংকটে আবারও বন্ধ সিইউএফএলের সার উৎপাদন

গ্যাস–সংকটে আবারও বন্ধ সিইউএফএলের সার উৎপাদন

চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড, ছবিঃ সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) আবারও উৎপাদন বন্ধের মুখে পড়েছে।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাতটার দিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের প্রধান উত্তম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।”

 

সম্পূর্ণ গ্যাসনির্ভর এই কারখানাটির দৈনিক প্রয়োজন ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। তবে গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে উৎপাদন বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রিঅ্যাক্টরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ ছিল। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারির শেষ রাত থেকে চালু হলেও মাত্র দেড় মাসের মাথায় আবারও থেমে গেল উৎপাদন।

সিইউএফএল সূত্র জানায়, গত ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরে মাত্র পাঁচ দিন চালু ছিল কারখানাটি। গত বছর ৭ ফেব্রুয়ারি উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ আট মাস পর ১৩ অক্টোবর চালু হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে আবারও যান্ত্রিক সমস্যায় পড়ে কারখানাটি।

 

জাপানের কারিগরি সহায়তায় ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে এই কারখানা চালু হয়। শুরুর দিকে এর দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ছিল ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া। বর্তমানে কারখানাটি দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং বছরে ৩ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনে সক্ষম।

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে। বিসিআইসির অধীন সিইউএফএলসহ অন্যান্য কারখানাগুলো প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন করে, বাকি ১৬ লাখ মেট্রিক টন উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়। সিইউএফএলের পুনঃপুন উৎপাদন বন্ধ দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।