পেনাল্টি দাবি করে যা বললেন কোচ কাবরেরা

পেনাল্টি দাবি করে যা বললেন কোচ কাবরেরা

সংগৃহীত

ম্যাচের ফল বিপক্ষে, মুখেও স্পষ্ট হতাশার ছাপ। সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোলের পরাজয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে গোমরা মুখে হাজির হন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। ঘরের মাঠ, দর্শকের অকুণ্ঠ সমর্থন আর খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ভালো পারফরম্যান্স—সবকিছুর পরও হারের দায় নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে রাজি হলেন না তিনি।  

সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে একজন সাংবাদিক সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘ম্যাচ হারের পেছনে কোচের কৌশলের ভুল নাকি খেলোয়াড়দের ব্যর্থতা—সরাসরি বলুন।’ প্রশ্নটা যতটা স্পষ্ট, কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার জবাব ততটাই ঘোলাটে। তিনি বললেন, ‘দু’টি সমমানের দলের মধ্যে কড়াকড়ি এক ম্যাচ হয়েছে। ফুটবলে এমনটা হতেই পারে।’  

কোচ কাবরেরা এটি এড়িয়ে গেলেও তার কৌশল ও একাদশ বরাবরই প্রশ্নের মধ্যে। জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে প্রেস কনফারেন্সে আনলেও তাকে খেলাননি। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচেও জামালের এই পরিণতি হয়েছিল। যিনি কোচের পরিকল্পনায় থাকেন না, তার কাঁধেই কেন অধিনায়কত্ব আবারও সেই প্রশ্ন উঠেছে ফুটবলাঙ্গনে। আল আমিনকে একেবারে শেষ মুহূর্তে নামিয়েছেন কোচ হ্যাভিয়ের। তিনি মাঠে নামার পর খেলার গতি ও আক্রমণ দু’টোই বেড়েছিল।

ম্যাচ হারের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হতাশা ঝরে পড়ে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘কঠিন একটি ফল হয়েছে, যা হতে পারে, কিন্তু অবশ্যই আমরা এমন কিছু আশা করিনি। শুরুটা যেমন চেয়েছিলাম, ঠিক তেমনই হয়েছিল। তবে মাঝপথে কিছু ভুল করেছি, এরপর খেলোয়াড়েরা গতি হারিয়ে ফেলে এবং চাপের মুখে পড়ে।’

 

বাংলাদেশ ম্যাচটি খেলেছে স্বাগতিক হিসেবে, তারপরও দলের চাপে পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোচ বলেন, ‘আমরা চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারিনি। ম্যাচের কিছু সময় সিঙ্গাপুর আমাদের ওপর যথেষ্ট দাপট দেখিয়েছে। তাদের মতো মানসম্পন্ন দলের বিপক্ষে আমরা সবসময় নিজেদের মানিয়ে নিয়ে খেলতে পারি না—এটা আমাদের মেনে নিতে হবে।’

 

বাংলাদেশ হারলেও কোচ দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট, ‘আমি খেলোয়াড়দের দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্সে খুশি। শেষের দিকে বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণও হয়েছিল।’ ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদ ফাহিম সিঙ্গাপুরের বক্সে ফাউলের শিকার হয়েছিলেন। বাংলাদেশের ডাগআউট পেনাল্টির দাবি করেছিল। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হাভিয়ের কাবরেরা পরোক্ষভাবে পেনাল্টির দাবি করে বলেন, ‘ওই বিষয়টি আবার দেখতে হবে। বিশেষ করে, ফাহিমের ওই বিষয়টা আমি দেখিনি। তবে আমার কাছে মনে হয় এটা পরিষ্কার, আমরা যেভাবে খেলছিলাম, পুরোদমে আক্রমণ করছিলাম, আমি যদি ভুল না বলে থাকি, ২-২ হতে পারত ওই সিদ্ধান্ত পক্ষে এলে।’ 

বাংলাদেশ দলের অন্যতম ভরসা হামজা চৌধুরি ও শমিত সোমের পারফরম্যান্স নিয়ে ম্যাচ শেষে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা জানান মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তিনি বলেন, ‘শিলংয়ের ম্যাচের তুলনায় এই ম্যাচটা আমাদের জন্য ম্যানেজ করা অনেক বেশি কঠিন ছিল। পরিস্থিতি ছিল আলাদা, হয়তো সে কারণেই হামজার জন্য কাজগুলো কঠিন হয়ে গেছে। শমিত প্রথমার্ধে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিল, তবে আমি মনে করি তারা দুজনই ভালো খেলেছে।’

হামজা-শমিতের মতো আরেক তরুণ ফুটবলার ফাহমিদুলের খেলায়ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন কোচ। বলেন, ‘ফাহমিদুল তার সেরাটা দিয়েছে। প্রথম ম্যাচেও সে ভালো খেলেছিল, এই ম্যাচেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।’