গণঅভ্যুত্থানের ১১ মাস পর ৪ হত্যা মামলা
ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন হত্যার অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আরও ৪টি মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনূর আলম।
জানা যায়, গত জুন মাসের ২৭ ও ৩০ তারিখ মামলাগুলো দায়ের করা হয়। এতে বাদী হয়েছেন মো. সিরাজুল ইসলাম (৫৮), মুনজিল হোসেন (৫০), মো. আল আমিন (২৩) এবং মো. ওয়াজেদ আলী (৪০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মো. আল আমিন বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের (৭২), আসাদুজ্জামান খান কামাল (৭৩), এ কে এম শামীম ওসমান (৬৪), শামীম ওসমানপুত্র অয়ন ওসমান (৩৭), ভাতিজা আজমেরী ওসমান (৪৫) ও (নাসিক) ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল (৪২)। এ মামলায় অজ্ঞাত রয়েছেন ৬০ থেকে ৭০ জন।
মো. সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান (৬৪), শামীম ওসমানপুত্র অয়ন ওসমান (৩৭), ভাতিজা আজমেরী ওসমান (৪৫) এবং শাহজালাল বাদল (৪২)। মামলাটিতে অজ্ঞাত হিসেবে রয়েছে ১০০-১৫০ জন।
ওয়াজেদ আলীর দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের (৭২), আসাদুজ্জামান খান কামাল (৭৩), একেএম শামীম ওসমান (৬৪), শামীম ওসমানপুত্র অয়ন ওসমান (৩৭), ভাতিজা আজমেরী ওসমান (৪৫) ও (নাসিক) ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল (৪২)। এই মামলায় অজ্ঞাত আসামি রয়েছেন ৬০ থেকে ৭০ জন।
মুনজিল হোসেনের মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের অজ্ঞাত ৭০ থেকে ৮০ জন আসামি।
মামলার এজাহারগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ১৯ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বৃষ্টি হার্ডওয়ার দোকানের সামনে বাদী মুনজিল হোসেনের ছেলে মো. সুজন খান (২৯) উপস্থিত ছিলেন। সেদিন এ মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিরা ঘটনাস্থলে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করলে ভিকটিম সুজন খান নাভির নিচে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে।
পরদিন ২০ জুলাই বিকেল ৪টার সময়ে বাদী সিরাজুল ইসলামের ছোট ভাই আলাউদ্দিন (৩৬) আন্দোলনরতদের সঙ্গে যোগ দেন। ওইদিন বিক্ষোভকারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাদানিনগর অংশে বিক্ষোভ চালিয়ে গেলে তাদের দমাতে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অন্যান্য আসামিরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করেন। তখন ভিকটিম আলাউদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন।
একই দিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডাচ বাংলা ব্যাংকের সামনে বাদী আল আমিনের ছোট ভাই ভিকটিম আব্দুস সালাম গুলিবিদ্ধ হর। গুলিবিদ্ধের দু’দিন পর ডাচ্ বাংলা ভবন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একইদিন মহাসড়কের ডাচ বাংলা ব্যাংক ভবনের সামনে মামলার বাদী ওয়াজেদ আলীর ছোট ভাই ভিকটিম আব্দুস সালাম গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনূর আলম বলেন, ২৭ জুন একটি আর বাকি ৩টি মামলা ৩০ জুন রুজু হয়েছে।