নিষিদ্ধ সময়েও হারাম শরিফে যে নামাজ পড়া হয়

নিষিদ্ধ সময়েও হারাম শরিফে যে নামাজ পড়া হয়

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে কিছু নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ হলেও মসজিদে হারামে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনার কারণে তাওয়াফ-পরবর্তী নামাজ নিষিদ্ধ সময়েও আদায় করা যায়। বিভিন্ন মাজহাবের দৃষ্টিভঙ্গি ও শরিয়তের ব্যাখ্যাসহ এই বিধানের কারণগুলো নিচে বিশদভাবে আলোচনা করা হলো।

১. নিষিদ্ধ সময়ে নামাজের সাধারণ বিধান
ইসলামে তিনটি সময়ে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ: সূর্যোদয়, ঠিক দুপুরে (জোহরের আগে) এবং সূর্যাস্তের সময়। এ সময়ে নামাজ পড়া হারাম, কারণ মুশরিকরা তখন সূর্য পূজা করত। (মুসলিম; বুখারি)

২. মসজিদে হারামে ব্যতিক্রমের কারণ
মসজিদে হারামে তাওয়াফের পর ২ রাকাত নামাজ নিষিদ্ধ সময়েও পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাওয়াফের নামাজ ওয়াজিব (কারো মতে সুন্নতে মোয়াক্কাদা) হওয়ায় তা সবসময় জায়েজ (হেদায়া: ১/১১২; আল-মাজমু: ৩/৫৪৭)

৩. মাজহাবভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি
হানাফি: শুধু তাওয়াফের নামাজের জন্য ছাড় দেওয়া হয়েছে। (বাদায়েউস সানায়ে: ১/২১৬) তবে, নিষিদ্ধ সময় এড়ানোই উত্তম। (ফতোয়া হিন্দিয়া: ১/৬৯) যদি নিষিদ্ধ সময়ে পড়ে ফেলা হয়, তাহলে পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই। (রদ্দুল মুহতার: ২/৪৬৫)

শাফেয়ি: তাওয়াফ-পরবর্তী নামাজ সর্বাবস্থায় বৈধ। আর নিষিদ্ধ সময়ে ফরজের কাজা নামাজ পড়া জায়েজ (মসজিদে হারামসহ সব স্থানে)। (ইমাম নববি, আল-মাজমু: ৩/৫৪৭)

মালিকি: নিষিদ্ধ সময়ে তাওয়াফের নামাজ পড়া যাবে এবং ফরজের কাজাও পড়া জায়েজ। (বিদায়াতুল মুজতাহিদ: ১/১২৩) 

হাম্বলি: তাওয়াফের নামাজ পড়া যাবে এবং নিষিদ্ধ সময়ে ফরজের কাজা মসজিদে হারামসহ সবখানে জায়েজ। (আল-মুগনি: ২/২৩৪)

উল্লেখ্য, জানাজার নামাজ সব মাজহাবেই নিষিদ্ধ সময়ে পড়া জায়েজ। মূলত বিলম্ব না করার স্বার্থে বা অন্যান্য ওজরের কারণে জানাজা নিষিদ্ধ সময়ের আওতাভুক্ত নয়। আর কোনো মাজহাবেই নিষিদ্ধ সময়ে নফল নামাজ পড়ার অনুমতি নেই।

৪. সতর্কতা ও সারাংশ
হানাফি মাজহাবমতে, মসজিদে হারামে নিষিদ্ধি সময়ের নামাজে এই ব্যতিক্রম শুধু তাওয়াফের নামাজের জন্য প্রযোজ্য, অন্যকোনো নামাজ নয়। তাওয়াফ পরবর্তী নামাজ যথাসময়ে আদায় করার নিমিত্তে এই রায় দেওয়া হয়েছে, যদিও এই সময় এড়ানোই উত্তম। নিষিদ্ধ সময়ে ইবাদতের এই নমনীয়তা শরিয়তের গভীর প্রজ্ঞারই প্রতিফলন।