মহারাষ্ট্রে চলন্ত বাস থেকে নবজাতককে ফেলে হত্যা, আটক ২
প্রতিকী ছবি
ভারতের মহারাষ্ট্রে বাসের জানালা থেকে নবজাতককে ফেলে হত্যার অভিযোগ এক যুগলকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ভোর সাড়ে ছটার দিকে ওই ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
এক পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সান্ত প্রায়াগ ট্রাভেলসের একটি স্লিপার কোচে আলতাফ শেখের সঙ্গে পুনে থেকে পরভানি যাচ্ছিলেন রিতিকা ধেরে। বাসে চড়ার সময় সন্তানসম্ভবা ছিলেন রিতিকা। পরে বাসে চড়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি প্রসব বেদনা অনুভূত করেন এবং সেখানে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। তবে বাচ্চা জন্ম নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তাকে কাপড়ে মুড়ে জানালা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।
বাস চালক তার আয়নাতে কিছু একটা ফেলে দেওয়ার আভাস পেয়ে ওই যুগলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে আলতাফ শেখ। সে দাবি করে, চলন্ত বাসে তার সঙ্গিনীর শরীর খারাপ লাগছিল বলে বমি করেছে, সেটাই ফেলে দেওয়া হয়।
তবে তাদের কৃত কর্ম বেশিক্ষণ চাপা থাকেনি। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সে সময় ওই সড়কে থাকা এক পথচারী বাসের জানালা দিয়ে কিছু একটা ছুঁড়ে ফেলতে দেখেন। কৌতূহল বসে যাচাই করতে গিয়ে শিশুর মরদেহ খুঁজে পান তিনি। পরে পুলিশ হেল্পলাইনে তার কলের ভিত্তিতে ওই বাস শনাক্ত করে থামিয়ে অভিযুক্তদের আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রশ্নের জবাবে ওই যুগল জানিয়েছে, বাচ্চার ভরণপোষণ সামলাতে পারবে না ভেবে তাকে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, রিতিকা ধেরে ও আলতাফ শেখ দুজনেই পরভণীর বাসিন্দা এবং গত দেড় বছর ধরে পুনেতে বসবাস করছিলেন।
ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং ওই যুগলের বিরুদ্ধে পরভণীর পাঠরি থানায় ভারতীয় ফৌজদারি বিধির ধারা ৯৪(৩) ও ৯৪(৫) এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা গোপনে সন্তান জন্ম দেওয়া ও মৃতদেহ গোপনে ফেলার অভিযোগে প্রযোজ্য। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়েছে।