নওগাঁয় যায়যায়দিনের সিনিয়র সাংবাদিক রুহুল আমিনের উপর সন্ত্রাসী হামলা

নওগাঁয় যায়যায়দিনের সিনিয়র সাংবাদিক রুহুল আমিনের উপর সন্ত্রাসী হামলা

হাসপাতালে আহত সাংবাদিক রুহুল আমিন। ছবিঃ সংগৃহিত।

জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিনের নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ইউনাইটেড প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক রুহুল আমিনের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

০৪ আগস্ট সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নওগাঁ জেলা শহরের কোমাইগাড়ী এলাকায় পারভেজ নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তার উপর হামলা করে সন্ত্রাসীরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন সাংবাদিক রুহুল আমিন।

এদিকে ইতোমধ্যে হামলাকারি মোস্তাফিজুর রহমান পারভেজ এর বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক রুহুল আমিন। তার অভিযোগ, হামলাকারী পারভেজ এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। অথচ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। এমন পরিস্থিতিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।

নওগাঁ সদর থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে একটি গণমাধ্যমে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নওগাঁ ইউনাইটেড প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিনের কাছে থেকে ৭০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন মোস্তাফিজুর রহমান পারভেজ। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হইলেও নিয়োগ না দিয়ে নানান অজুহাতে কালক্ষেপণ করেন পারভেজ। এক পর্যায়ে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে টাকা ফেরত না দিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক রুহুল আমিনকে নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকেন পারভেজ। এমতাবস্থায় ০৪ আগস্ট সোমবার বিকেলে নওগাঁ ডিগ্রির মোড়ে অবস্থানকালীন সময়ে পারভেজসহ অজ্ঞাতনামা একজন একটি মটরসাইকেল যোগে রুহুল আমিনের কাছে আসেন এবং বলেন ''নিয়োগটা হওয়ার পথে সেই বিষয়ে কথা বলবেন"। এরপর তাদের মোটরসাইকেলে রুহুল আমিনকে উঠিয়ে পৌরসভার কোমাইগাড়ী গ্রামস্থ ডিগ্রির মোড় টু বাইপাসগামী রাস্তার মাঝামাঝি মলফেলা নামক স্থানের রাস্তার উপর নিয়ে যান পারভেজ। এরপর আশেপাশে ওতপেতে থাকা আরো ৪-৫ জনকে সাথে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে সাংবাদিক রুহুল আমিনকে মারপিট শুরু করে। এরপর পারভেজ তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে সাংবাদিক রুহুল আমিনের মাথায় আঘাত করলে আঘাতটি বাম হাত দ্বারা প্রতিহত করেন তিনি। আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে বেদম মারপিট করা হয়। এতে সাংবাদিক রুহুল আমিনের শরীর মারাত্মক জখম হয়। ছিনিয়ে নেয়া হয় সাংবাদিক রুহুল আমিনের পকেটে থাকা নগদ ১২ হাজার ৫০০ টাকা ও গলায় থাকা একটি ২১ ক্যারেটের আট আনা ওজনের ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন।

সিনিয়র সাংবাদিক রুহুল আমিন বলেন, কোমর, মেরুদণ্ডসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়েছি। কয়েকবার রক্তবমি হয়েছে। বুকে এখনো তীব্র ব্যথা অনুভব করছি। চিকিৎসা চলছে। জানিনা সুস্থ হতে পারবো কিনা। এখন একটাই চাওয়া "হামলাকারী সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ মোস্তাফিজুর রহমান পারভেজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই"। ন্যায় বিচার পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাই।

ঘটনার পর থেকে পারভেজ পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ সম্পর্কে কথা বলার জন্য মোস্তাফিজুর রহমান পারভেজকে কল করেন এই প্রতিবেদক। অনেকবার কল করার পরেও তার নাম্বারটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, সাংবাদিক রুহুল আমিনের উপর হামলার ঘটনায় তিনি একটি এজাহার দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।