কাদার ভেতর স্বপ্ন বুনছেন উপকূলের কৃষকরা
সংগৃহীত ছবি
বর্ষার ভরা মৌসুম। আকাশে মেঘ, মাঠে পানি, চারপাশে সবুজের ছোঁয়া। এ সময়টাতেই যেন প্রাণ ফিরে পায় উপকূলের কৃষকরা। যেদিকে চোখ যায় শুধু কাদামাখা জমি আর কৃষকের কর্মচাঞ্চল্য। আমন ধান রোপণের এ মৌসুম উপকূলের মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনছেন ফসলের মাঠে।
ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে নানা বয়সী কৃষকরা মাঠে নেমে পড়েন। কাদা-পানির ভেতর একে একে সাজানো হচ্ছে সবুজ চারা। সবার চোখেমুখে ফুটে উঠছে আনন্দ আর আশা। যেন কাদা নয়, জমির বুকে বুনছে আগামীর স্বপ্ন।
কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, ধান রোপণ মানে শুধু ফসল নয়, পরিবারের ভবিষ্যৎ। যদি ফসল ভালো হয় তবে সারা বছর চাল কিনতে হয় না। বছর শেষে লাভ হয়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে আমন ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কোথাও ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ হচ্ছে। কোথাও চলছে আগাছা পরিষ্কার, আবার কোথাও দলবদ্ধভাবে চারা রোপণ চলছে। কৃষকেরা বেশি চাষ করছেন ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান -৫১ ,ব্রি ধান-৫২ এবং দেশি সাদা মোটা, জিরা বাদামসহ হাইব্রিড জাত। বৃষ্টির পানিতে জমি তৈরির পর কৃষক আমন ধান রোপণ করছেন। পানি সেচ ছাড়াই বৃষ্টির পানিতে রোপণকৃত চারাও ভালো হয়। এতে তেমন কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি। বিগত বছরের চেয়ে এবছর আমন চাষে কৃষকরা ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা আর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সময় মতো ধান রোপণ করতে পারছেন তারা।
লতাচাপলী ইউনিয়নের আছালতপাড়া গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন বলেছেন, এ বছর বর্ষার শুরুতে বৃষ্টি ছিল। তাই বীজতলা তৈরি ও হালচাষে বিলম্ব হয়নি। তবে গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি না থাকায় কোথাও কোথাও চাষের জমি শুকিয়ে গেছে।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ৩০ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হবে। এরইমধ্যে কৃষকরা জমি তৈরি, বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন ও রোপণের কাজ শুরু করেছেন পুরোদমে। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৫০০ হেক্টরে ইতোমধ্যে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই শতভাগ রোপণ সম্পন্ন হবে। ভালো আবহাওয়া আর ঘূর্ণিঝড়মুক্ত মৌসুম হলে উৎপাদন আগের বছরের চেয়ে বাড়বে বলেও আশা করা হচ্ছে।
তবে কৃষকের পথ সহজ নয়। জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি কিংবা লবণাক্ত পানির প্রবাহ ফসলের সবচেয়ে বড় শত্রু। বহুবার দেখা গেছে, ভালোভাবে রোপণ শেষে কয়েক ঘণ্টার ঘূর্ণিঝড়ে তলিয়ে যায় কৃষকের সব আশা। তবু তারা হাল ছাড়েন না। আবার চারা তুলে, আবার রোপণ করে নতুন করে শুরু করেন।