শর্টসার্কিট কেন হয় ও প্রতিরোধের উপায়
ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ সবসময় সহজ পথ খুঁজে নেয়। যখন বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য নতুন একটি পথ তৈরি হয়, যেখানে আগের সার্কিটের তুলনায় বাধা কম থাকে, তখন বিদ্যুৎ সেই পথ ধরে দ্রুত চলতে শুরু করে। এর ফলে অতিরিক্ত ইলেকট্রন প্রবাহিত হয় এবং দ্রুতগতির কারণে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। সেই তাপ বের হতে না পেরে বিস্ফোরণ ঘটায় এবং অনেক সময় আগুন ধরে যায়। একেই বলা হয় শর্টসার্কিট।
শর্টসার্কিট হওয়ার কারণ
নিম্নমানের তার ও কেবল ব্যবহার
অতিরিক্ত লোড বা একসাথে অনেক যন্ত্রপাতি চালানো
মাল্টিপ্লাগের অতিরিক্ত ব্যবহার
আর্দ্রতা বা পানির সংস্পর্শে আসা
অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি হওয়া
বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ–সংযোগ চালু রাখা
শর্টসার্কিট প্রতিরোধের উপায়
১. থ্রি–প্রং আউটলেট ব্যবহার করুন – এটি উচ্চ ভোল্টেজের ঝাঁকুনি প্রতিরোধ করে।
২. ভালো মানের কেবল ও তার ব্যবহার করুন – সবসময় সার্টিফায়েড ব্র্যান্ড ব্যবহার করা উচিত।
৩. বিদ্যুৎ–সংযোগ বন্ধ করে কাজ করুন – যে-কোনও বৈদ্যুতিক কাজের আগে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন।
৪. জাতীয় বিল্ডিং কোড মেনে বাড়ি তৈরি করুন – বৈদ্যুতিক লাইন বসানোর সময় নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে।
৫. মাল্টিপ্লাগ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন – একটি আউটলেটে অতিরিক্ত মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করা বিপজ্জনক।
6. তাপ ও পানি থেকে দূরে রাখুন – রান্নাঘর, বাথরুম বা ওয়াশিং মেশিনের পাশে বৈদ্যুতিক লাইন দেবেন না।
৭. বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকুন – টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি ইত্যাদি যন্ত্র বন্ধ রাখুন।
৮. ফিউজ বক্স বা সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করুন – অতিরিক্ত প্রবাহ হলে ফিউজ বা ব্রেকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোগ বন্ধ করে দেয়, যা দুর্ঘটনা এড়ায়।
সঠিক নিয়ম মেনে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে সহজেই শর্টসার্কিটের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।