বাল্যবিবাহ রোধে বসুন্ধরা শুভসংঘেরস আলোচনাসভা

বাল্যবিবাহ রোধে বসুন্ধরা শুভসংঘেরস আলোচনাসভা

সংগ্রহীত ছবি

বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে যশোরের অভয়নগরে বাল্যবিবাহ ও যৌতুক  প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৪ আগস্ট) সকালে শুভসংঘ অভয়নগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে নওয়াপাড়া শংকরপাশা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। 

বসুন্ধরা শুভসংঘ অভয়নগর উপজেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ সোয়াহেব ইমতিয়াজ ইয়াদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, নওয়াপাড়া শংকরপাশা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, সহকারী শিক্ষক এস এম ফারুক আহমেদ, নাজমুননাহার সুমা, শুভসংঘের উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের অভয়নগর উপজেলা প্রতিনিধি সৈয়দ জাহিদ মাসুদ তাজ, হাফেজ নাইমুল হাসান জনি, অভিভাবক জিএম বাচ্চু।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেয় দশম শ্রেণির তৌফিকুল ইসলাম, অর্ঘ্য বিশ্বাস, আনাস ইবনে জিয়া, নবম শ্রেণির দোলা মন্ডল ও সিদরাতুল মুনতাহা ইকরা। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা  শুভসংঘ অভয়নগর উপজেলা শাখার  সহসভাপতি আজগর আলী, রাজয় রাব্বি, কোষাধ্যক্ষ আকিব হোসেন গালিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিন গাজী, সদস্য, আসজাদ ইসনাদ, হাসান মাসুদ প্রমুখ।

প্রধান অতিথি প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাল্যবিবাহ সমাজের এক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।

অল্প বয়সে বিবাহের ফলে অনেক মেয়ের জীবন অকালে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যৌতুক একটি অমানবিক প্রথা যা মানুষকে ঘৃণিত করে এবং সমাজে আর্থিক বৈষম্য তৈরি করে। তাই বাল্যবিবাহ ও যৌতুক  প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। এ ধরনের ঘটনার খবর জানা মাত্র প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা প্রতিরোধ করতে হবে।

দশম শ্রেণির ছাত্র তৌফিকুল ইসলাম বলে, ‘বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে প্রত্যন্ত এলাকায় বেশি করে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। বাল্যবিবাহের সঙ্গে জড়িত উভয়পক্ষকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তর্মলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সম্ভব হবে।’ 

নবম শ্রেণির ছাত্রী সিদরাতুল মুনতাহা ইকরা বলে, ‘যৌতুক সমাজের জন্য এক কলঙ্কনারী। এটি শিশু নির্যাতন, অমানবিক অত্যাচারে মৃত্যু, বিবাহবিচ্ছেদ এবং পারিবারিক কলহের কারণ হয় ।

তাই যৌতুকের বিরুদ্ধে আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

বসুন্ধরা শুভসংঘ অভয়নগর উপজেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ সোয়াহেব ইমতিয়াজ ইয়াদ বলেন, ‘দারিদ্রতা ও নিরাপত্তহীনতার ভয়ে বেড়েছে বাল্যবিবাহ। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুভসংঘের সদস্যরা জনসচেতনতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ শুরু করেছে।  সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় যৌতুক ও বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব। আমাদের পক্ষ থেকে এই ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।’