শ্রীপুরে ব্যবসায়ী আটক, র্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরের শ্রীপুরে অটোরিকশা পার্টস ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেনকে র্যাব সদস্যরা আটক করার প্রতিবাদে স্থানীয়রা শ্রীপুর-বরমী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। রোববার থেকে বরামা চৌরাস্তা এলাকায় তারা র্যাবের গাড়ি আটকে করে মোশারফ হোসেনকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন। এ সময় সড়কের উভয় পাশে যানবাহন আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক।
আটক মোশারফ হোসেন শ্রীপুর উপজেলার বরমী মধ্যপাড়া গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে। তিনি বরামা চৌরাস্তা এলাকায় অটোরিকশার পার্টস ব্যবসা করেন।
স্থানীয়রা জানান, র্যাব সদস্যরা দুটি গাড়িতে এসে মোশারফের দোকানে ঢুকে তাকে অস্ত্রসহ আটক করার চেষ্টা করেন। এতে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা সড়কে চেয়ার, টেবিল, টায়ারসহ অন্যান্য মালামাল ফেলে অবস্থান নেন এবং র্যাবের গাড়িকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে, কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যৌথ বাহিনী পৌঁছে কয়েকজনকে আটক করে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, র্যাব সদস্যরা জহিরুল ইসলাম লিটনের নির্দেশে মোশারফ হোসেনকে ফাঁসিয়ে অস্ত্রসহ আটক করার নাটক সাজিয়েছে। তারা জানান, শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরমী ইউনিয়নের বরামা এলাকায় জহিরুল ইসলাম ফাঁকা গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা রাতভর বিক্ষোভ ও মিছিল করেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেনকে অনেক আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তার কাছে অস্ত্র ছিল কিনা সে বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারছি না।
র্যাব-১ গাজীপুর ক্যাম্পের কমান্ডার এসপি কে এম এ মামুন খান চিশতী বলেন, র্যাব উত্তরা টিম মোশারফ হোসেনকে আটক করেছিল। আমরা ঘটনাস্থলে ছিলাম এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। কোনও সাজানো ঘটনা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জহিরুল ইসলাম লিটন বরামা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ২০২৩ সালের ৯ জুলাই অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।