সিরাজগঞ্জে হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জে হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন

ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জের বহুলী ইউনিয়নের চাঁদপাল গ্রামে সংঘটিত আলোচিত হত্যা মামলায় আদালত রায় ঘোষণা করেছে। বুধবার জেলা ও দায়রা জজ ইকবাল হোসেন চারজন আসামি – আ. আলিম শেখ, মো. আবু বক্কার, মোজাম শেখ ও আ. রউফকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবেন। এছাড়া আসামি আব্দুল্লাহ ও মোস্তাফিজুর রহমানকে পেনাল কোডের ৩২৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিচারকালীন কারাবাসের মেয়াদ মোট দণ্ড থেকে বাদ যাবে এবং সাজা যুগপৎ কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ।

আদালত রায়ে উপস্থিত ছয় আসামিকে সাজা কার্যকর করার জন্য সিরাজগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে, মামলার আসামি আমির হামজা শেখ ও মোছাঃ লিলি খাতুনকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।

২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চাঁদপাল গ্রামে রাস্তা সম্প্রসারণ ও মাদ্রাসার দেয়াল ভাঙাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে এই নৃশংস ঘটনা। ভিকটিম আশরাফ আলী, যিনি রাস্তা নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের সহকারী ছিলেন, ঘটনাস্থলে গেলে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি, ছোড়া ও লৌহ রড দিয়ে তাকে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন। একই ঘটনায় আনোয়ার হোসেন তালুকদারকেও মারাত্মকভাবে আহত করা হয়।

সিরাজগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। রায়টি সমাজে বার্তা পৌঁছে দেবে যে অপরাধ করে কেউ পার পায় না।

রায়ের পর নিহতের নাতি সুমন বলেন, দশ বছর ধরে আমরা এই দিনের জন্য অপেক্ষা করেছি। আংশিকভাবে সন্তুষ্ট হলেও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আশা করেছিলাম। আদালতের রায় আমরা সম্মান করি এবং চাই দ্রুত কার্যকর করা হোক।

রায়ের অনুলিপি বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজগঞ্জ বরাবর প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আসামিদের জামিনদাতাদের অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে এবং মামলার জব্দকৃত আলামত বিধি মোতাবেক নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।