আবার আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ চায় যুক্তরাষ্ট্র

আবার আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ চায় যুক্তরাষ্ট্র

ফাইল ছবি এএফপি

আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি আবারও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আফগান এক কর্মকর্তা বলেছেন, দেশে কোনো মার্কিন উপস্থিতির প্রয়োজন নেই।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর থেকে সোভিয়েত আমলে নির্মিত এই ঐতিহাসিক বিমানঘাঁটিই ছিল আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর প্রধান ঘাঁটি।

কিন্তু ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর ইসলামপন্থী তালেবানরা এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।

বাগরাম ঘাঁটি সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটি ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছি। চীনের কাছে এর কৌশলগত অবস্থানের কারণে আমরা সেই ঘাঁটিটি চাই।’ 

তবে কাবুল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের কোনো চুক্তির প্রশ্নই ওঠে না।

আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জাকির জলাল এক্সে লিখেছেন, ‘আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক উপস্থিতি আফগানিস্তানের কোনো অংশে থাকা চলবে না।’ 

তিনি আরো বলেন, দুই দেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বেইজিং আফগানিস্তানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সব পক্ষকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানিয়েছে।

প্রবক্তা লিন জিয়ান শুক্রবার নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ ও নিয়তি অবশ্যই আফগান জনগণের হাতেই থাকা উচিত।

আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, এই অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়ানো ও মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি করা জনসমর্থন পাবে না।’ 

এদিকে বিদেশে ভুলভাবে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়ে কাবুলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ চালাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা শনিবার আফগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। 

ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ বন্দি-দূত অ্যাডাম বোহলার এবং সাবেক আফগানিস্তান-বিষয়ক মার্কিন দূত জালমে খলিলজাদ তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে বৈঠক করেন।

তবে ওয়াশিংটন এখনো তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, যারা ২০২১ সালে ২০ বছরের মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের অবসান ঘটিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে।