ময়মনসিংহে শিশুকে বিষ মেশানো দুধ পান করিয়ে হত্যার অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে
সংগ্রহীত ছবি
ময়মনসিংহের নান্দাইলের পল্লীতে সাড়ে তিন মাস বয়সের এক ছেলে শিশুকে গভীর রাতে দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তা খাওয়াইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। আর এই অভিযোগ করেছেন খোদ শিশুটির মা। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবাকে এলাকার লোকজন আটক করে রেখেছেন। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের আমোদপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র ও নিহত শিশুটির পরিবার জানায়, ওই গ্রামের আব্দুর রাশিদের মেয়ে গার্মেন্টস কর্মী তানজিলা (১৭) প্রেম করে গত প্রায় দেড় বছর আগে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন পাশের গফরগাঁও উপজেলার চরকামারিয়া গ্রামের মো. সিফাতের(২৫) সঙ্গে। এর মধ্যে তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক ছেলে সন্তানের।
শিশুটির মা তানজিলা জানান, বিয়ের পর সন্তানসম্ভবা হয়ে গেলে তিনি গার্মেন্টেসের চাকরি ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে চলে আসেন শ্বশুরবাড়িতে। পরে বাবার বাড়িতে ছেলে সন্তানের জন্ম হলে স্বামী শিশু সন্তানকে রেখে ফের চাকরিতে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়।
কিন্তু শিশু সন্তানের দায়িত্ব কেউ নিতে না চাইলে স্বামীর সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এর বাইরে সিফাত যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় গত শুক্রবার দুপুরে স্বামী সিফাত শিশুকে দেখার কথা বলে রাতে থাকে। ওই রাত প্রায় ২টার দিকে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে বুকের দুধ খাওয়াইয়ে তিনি প্রাকৃতিক ডাকে বাহিরে যান।
এসে দেখেন ফ্লাক্সে রাখা দুধ একটা ফিডারে ভরে শিশুকে খাওয়াচ্ছেন স্বামী সিফাত। আর এই দুধ খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বমি ও পায়খানা শুরু করে চিৎকার করতে থাকে। ওই সময় ঘরে বিষের গন্ধ পেলে ফ্লাক্সটিকে নিয়ে বাহিরে যান স্বামী সিফাত।
জানতে চাইলে তখন সিফাত বলেন, দুধে দুর্গন্ধ আছে, তাই বাকি দুধ ফেলে দিয়েছেন। তা বলেই ঘরে থাকা হুইল পাউডার দিয়ে ফ্লাক্সটি দ্রুত ধুয়েও ফেলেন সিফাত।
এ নিয়ে সিফাতের সঙ্গে পরিবারের অন্যদের কথাকাটাকাটি হলেও কেউ আমলে না নিয়ে শিশুটিকে বাঁচাতে দ্রুত নান্দাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ বাড়িতে আনা হলে শিশুর বাবা সিফাতের ব্যাপক তাগাদায় তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়।
এর মধ্যে ফিডারে ও ফ্লাক্স থেকে বিষের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়। এক পর্যায়ে বাড়িতেই অবস্থান করা সিফাত দ্রুত চলে যেতে চাইলে লোকজন আটকে দেয়। বাড়ির লোকজনের ধারণা, হত্যার উদ্দেশ্যেই সিফাত দুধে বিষ মিশিয়ে নিজের ছেলে শিশুকে হত্যার করে।
তানজিলা অভিযোগ করে বলেন, আমি কেন শিশুটিকে রেখে চাকরিতে গেলাম না এই জন্য পরিকল্পনা করেই হত্যা করেছে স্বামী। আমি এর বিচার চাই।
শনিবার সকালে বাড়িতে দেখা যায়, শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়িতে এলাকাবাসীর ভিড়। শিশুর মায়ের খোঁজ করে জানা যায়, শিশুটির মা তানজিলা বাবা আব্দুর রাশিদকে নিয়ে থানায় গিয়েছেন। ওই সময় শিশুটি যে ঘরে থাকত, সেই ঘরে প্রবেশ করলেই এক ধরনের গন্ধ বের হয়ে আসছে। যে ফ্লাক্সটির ভেতর দুধ ছিল তার মুখ খুলতেই বের হয়ে আসে বিষের ঝাঁঝালো গন্ধ। ওই সময় উপস্থিত নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, সুস্থ-সবল শিশুটির এ ধরনের মৃত্যুর পেছনে কারো হাত রয়েছে। সেক্ষেত্রে বাবাই সন্দেহভাজন।
তবে একটি আটকে রাখা অভিযুক্ত সিফাত জানান, তিনি ফ্লাক্স থেকে দুধ ফিডারে ভরে শিশুকে খাইয়েছেন। তবে কেন এই দুধ খেয়ে মারা গেল তা তিনি বলতে পারবেন না। তাহলে আপনি ফ্লাক্স হুইল পাউডার দিয়ে ধুইছিলেন কেন- এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,‘এইডা কেরে করলাম তা আমিও বুঝতাছি না।’ তাৎক্ষণিক তিনি বলে ওঠেন,‘আল্লার মাল আল্লাহই নিছেগা.এর লাইগ্যা আফসোস নাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জালাল উদ্দিন মাহমুদ জানান, অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।