আ.লীগের পুনর্বাসনে জামায়াতের ইন্ধন দেখা যাচ্ছে: রিজভী

আ.লীগের পুনর্বাসনে জামায়াতের ইন্ধন দেখা যাচ্ছে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে জামায়াতে ইসলামীর ইন্ধন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হলে দেশের ভয়াবহ পরিণতি হবে। ফের স্বৈরাচারের যাঁতাকলে পিষ্ট হবে দেশ। 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে জামায়াতে ইসলামীর ইন্ধন দেখা যাচ্ছে।

বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের আগ্রহ ও ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাওয়া নিয়ে জামায়াতের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। শেখ হাসিনার দেওয়া গণহত্যার যে নির্দেশনা সামনে আসছে তাতে ভারতের মদদ ছিল।

তিনি বলেন, যে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গুলির জন্য নির্দেশ দিচ্ছেন এবং গতকালকে যে আলামতগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে ডকুমেন্ট ও টেলিফোন কথোপকথনের ক্লিফসহ এসব যে কেউ শুনলে শিহরিত হয়ে উঠবে। আমরা যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি, আন্দোলন করেছি, রাজনীতি করেছি আমরা প্রত্যেকে মৃত্যুর মুখোমুখি ছিলাম। 

এই বিএনপি নেতা বলেন, শেখ হাসিনার বর্বরতা আমরা স্বচক্ষে দেখেছি, নিজেরা নিপীড়নের শিকার হয়েছি, দিনের পর দিন রিমান্ডে থেকেছি, মাসের পর মাস জেলখানায় থেকেছি, তার ভয়াবহতা আমরা দেখেছি। কিন্তু এর গভীরে যে আরও ভয়াবহতা ছিলো তারা একটি আন্দোলনকে দমানোর জন্য কী ভয়ংকর পরিণতির দিকে নিয়ে গিয়েছিলো সেটা এখন প্রতিদিনকার যে আলামতগুলো আদালতে জমা হচ্ছে, সেখানে উপস্থাপন করা হচ্ছে তা থেকে বুঝা যায়। 

তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন কথোপকথনের যে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হচ্ছে তাতেই আমাদের মধ্যে উদ্বেগ-শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। যদি এই ফ্যাসিবাদী শক্তির আবার পুনরুত্থান ঘটে তাহলে ৫ আগস্টের আন্দোলনকামী মানুষ, গণতন্ত্রকামী মানুষের কী ভয়ংকর পরিণতি ভোগ করতে হবে সেটা চিন্তা করে শরীরের লোম শিহরে ওঠে। 

রিজভী বলেন, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করার নির্দেশ, যত সরকারি ভবনে আগুন জ্বালিয়েছে, মেট্রোরেলের স্টেশনে যে আগুন লাগানো হলো সব শেখ হাসিনার নির্দেশে হয়েছে- সেটা আজ সেই টেলিফোনের কথোপকথনে থেকে বেরিয়ে আসছে, সত্য বেরিয়ে আসছে। অথচ ওই সমস্ত নাশকতার ঘটনায় তখন আন্দোলনকারী মানুষদের ওপরে চাপানো হয়েছে। আমাকে ওই সময়ে মেট্রোরেল স্টেশনের পোড়ানোর মামলায় আসামি করা হয়েছিলো। অথচ এখন আমরা প্রমাণ পাচ্ছি ওইসব ঘটনার সব নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা নিজেই। নাশকতার যে অভিযোগ ওই সময় করা হয়েছে, সেই নাশকতা তিনি (শেখ হাসিনা) নিজে সৃষ্টি করেছেন। তিনি (শেখ হাসিনা) এমন এক সর্বনাশা খেলায় মেতেছিলেন যার ফলে দেশ, জাতি ও মানুষের জানমাল বিপন্ন হয়েছিল।

ভোট জরিপের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, জরিপ নিয়ে আপাতত বিএনপির কোনো ভাবনা নেই।