একের পর এক বাধা কি থামিয়ে দেবে গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাকে?

একের পর এক বাধা কি থামিয়ে দেবে গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাকে?

ছবি রয়টাস

এ মাসের শুরুতে বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৫১টি বেশি জাহাজ নিয়ে গাজার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। মূলত ইসরায়েলের সমুদ্র পথ অবরোধ ভেঙে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এটি যাত্রা করেছে। তবে যাত্রার পর থেকে একের পর এক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে এটি।

সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সমাজকর্মী, এমনকি রাজনীতিবীদরাও যাত্রা করছেন এই ফ্লোটিলার সঙ্গে।

 

তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই হুমকি দিয়েছে, নৌবহর গাজার তীরে পৌঁছলে অংশগ্রহণকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে। শুধু তাই নয়, একের পর এক ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে এ বহরটি।

গত ৯ সেপ্টেম্বর এর আয়োজকরা জানায়, বহরের প্রধান নৌকাটি মঙ্গলবার ভোরে তিউনিসিয়ার উপকূলে ড্রোন হামলার শিকার হয়। এতে নৌকাটিতে আগুন ধরে যায়।

ফ্লোটিলা আয়োজক কমিটির সদস্য টিয়াগো আভিলা সেসময় এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ফ্যামিলি’ নামের নৌকাটিকে তিউনিসিয়ার উপকূলের কাছে একটি দাহ্য পদার্থ বহনকারী ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। আমাদের দলের কয়েকজন সদস্য নৌকায় ছিলেন, তবে কেউ আহত হননি।

ফ্লোটিলার গণমাধ্যম টিম এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছিল।

এ ঘটনার একদিন পর ১০ সেপ্টেম্বর আবারও বহরটি ড্রোন হামলার শিকার হয় বলে অভিযোগ করে আয়োজকরা।

ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১০টি জাহাজে মোট ১৩ বার হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যোগ দেওয়া পোল্যান্ডের সংসদ সদস্য ফ্রানেক স্টারচেভস্কও একই তথ্য জানিয়েছেন।

মানবাধিকারকর্মীর বলেছেন, ‘ড্রোন থেকে অজ্ঞাত বস্তু নিক্ষেপ করা হয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, এমনকি উচ্চস্বরে সংগীত বাজিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে।’

২৪ অক্টোবর নৌ-বহরে থাকা ব্রাজিলিয়ান অ্যাক্টিভিস্ট থিয়াগো আভিলা ১০ টি বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছেন।

থিয়াগো আভিলা এক ভিডিও বার্তায় বলেন, পরিস্থিতি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। ড্রোন ব্যবহার করে জাহাজে ফ্ল্যাশ-ব্যাং, স্টান গ্রেনেড এবং কেমিক্যাল ছুঁড়ছে ইসরায়েল। তিনি বলেন, আমরা জানি ইসরায়েল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে এগুলো করছে। ড্রোনগুলো অনেকদিন ধরে আমাদের ওপরে উড়ছে।

এ ছাড়া আয়োজকরা আরো দাবি করেছে, একাধিকবার তাদের বহরের ওপর দিয়ে অজ্ঞাত সামরিক বিমান উড়ে গেছে। 

তবে এসব হামলার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, গাজায় যাওয়ার পথে থাকা ত্রাণবাহী নৌযানের বহরকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তেলআবিবের অভিযোগ, এই বহরটি হামাস পরিচালিত এবং হামাসকে সেবা দিতেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফ্লোটিলার যাত্রীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য যদি মানবিক সহায়তা পৌঁছানো হয়, তবে তাদের নৌযানগুলোকে আশকেলন বন্দরে ভিড়তে হবে। সেখান থেকে সমন্বিতভাবে দ্রুত গাজায় সাহায্য পাঠানো হবে।

তবে আয়োজকরা বারবারা দাবি করেছে, তাদের উদ্দেশ্য হলো গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা, খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া এবং একইসঙ্গে বিশ্ব মঞ্চে ফিলিস্তিনি জনগণের কণ্ঠকে আরো জোরালো করা।

তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি সাধারণ মানুষ, মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী ও নাবিকদের একটি জোট।

হামলাগুলোর পর স্পেন ও ইতালি ফ্লোটিলার সহায়তায় তাদের রণতরী পাঠিয়েছিল।

ক্রুদের ভয় দেখানোর জন্য ইসরায়েলের এই মনস্তাত্ত্বিক অভিযান কাজে আসবে না বলে জানিয়েছে ফ্লোটিলা। 

ফ্লোটিলা অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, গাজায় যাওয়ার পথে তারা সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছেন। তাদের আশঙ্কা, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কৌশলে এ মিশনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে পারে।

তবে তারা জোর দিয়ে বলেন, কোনো হুমকি বা উত্তেজনা তাদের নিরুৎসাহিত করতে পারবে না। গাজা অবরোধ এখন আর শুধু ফিলিস্তিনিদের বিষয় নয়, বরং ‘এটি বৈশ্বিক বিবেকের প্রশ্ন, যা ব্যাপক মানবিক পদক্ষেপ দাবি করে।’ আয়োজকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘আমাদের গন্তব্য গাজা, আর আমরা থামব না।’