দোয়াই ইবাদত
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামে দোয়া একটি স্বতন্ত্র ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সাহাবি নোমান বিন বাশির (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘দোয়াই ইবাদত।’ (আবু দাউদ: ১৪৮১) অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘মহান আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো কিছু নেই।’ (ইবনে মাজাহ: ৩৮২৯)
নবীজির দোয়া শিক্ষাদানের পদ্ধতি
রাসুলুল্লাহ (স.) উম্মতকে দোয়া করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং প্রতিটি বিষয়ে নির্দিষ্ট দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। কখনো কখনো তিনি কোরআনের সুরার মতো দোয়া মুখস্থ করাতেন। এর পেছনে গভীর হেকমত রয়েছে; আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের শেখানো দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক।
কোরআনে বর্ণিত দোয়ার নমুনা
আল্লাহ তাআলা প্রথম মানব আদম (আ.)-কে দোয়া শিখিয়েছেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘অতঃপর আদম তার রবের পক্ষ থেকে কিছু বাণী শিখে নিল, ফলে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী, অতি দয়ালু।’ (সুরা বাকারা: ৩৭)
কোরআনে গুনাহ মাফ, মা-বাবার কল্যাণ, জান্নাত কামনা, দুনিয়া ও আখেরাতের মঙ্গল কামনায় অসংখ্য দোয়া পাওয়া যায়, যা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বান্দা আল্লাহর কাছে আবেদন করতে পারে।
দোয়ার মূল উদ্দেশ্য
দোয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন। কোরআনে আল্লাহ বলেন- ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির: ৬০)
অন্যত্র এসেছে: ‘আর যখন আমার বান্দারা তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, আমি তো নিশ্চয়ই নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিই, যখন সে আমাকে ডাকে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৬)
আল্লাহর কাছে দোয়ার গুরুত্ব
বান্দা যখন কিছু চায়, তখন আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। না চাইলে তিনি অসন্তুষ্ট হন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে না চায়, তার ওপর তিনি অসন্তুষ্ট হন।’ (তিরমিজি: ৩৩৭৩)
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে সবকিছু চাও, এমনকি জুতার ফিতার প্রয়োজন হলেও। কেননা আল্লাহ ব্যবস্থা না করলে তা তোমার জন্য সহজ হবে না।’ (মুসনাদে আবি ইয়ালা: ৪৫৬০)
ভাষাগত দিকনির্দেশনা
কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া জানা না থাকলে বাংলায় বা অন্য ভাষায় দোয়া করা বৈধ। তবে কোরআন-হাদিসের দোয়া সর্বোত্তম।
তবে নামাজের ভেতরে দোয়া করলে তা অবশ্যই আরবিতে করতে হবে। কারণ নামাজের প্রতিটি অংশ শরিয়ত নির্ধারিত এবং সবই ইবাদত। তাই নামাজে অন্য ভাষায় দোয়া করলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। (আদদুররুল মুখতার: ২/২৩৩-২৩৪; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ২/৩; বাহরুর রায়েক: ১/৫৭৬; ফতোয়ায়ে শামি: ১/৫২১)
সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণ
সাহাবিরা বেশি বেশি দোয়া করতেন। নবীজির শেখানো দোয়া পড়ে তাঁরা আল্লাহর অনুগ্রহ চাইতেন। নিজেদের ভাষায় দোয়া করতে পারতেন, তবুও তাঁরা আল্লাহ ও রাসুলের শেখানো দোয়াকেই মুখস্থ ও অগ্রাধিকার দিতেন। এটি আমাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
শেষ কথা, দোয়া হলো বান্দা ও আল্লাহর সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম। মাসনুন দোয়াগুলো আয়ত্ত করে নিয়মিত দোয়া করলে আমরা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে প্রতিদিনের মাসনুন দোয়াগুলো পাঠ করার তাওফিক দিন। আমিন।