অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ অভিনেতার

অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ অভিনেতার

ছবি: সংগৃহীত

আশির দশকের আলোচিত সিনেমা ‘পথভোলা’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তুহিন বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ছবিতে তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তাপস পাল, অভিষেক চট্টোপাধ্যায় ও শক্তি ঠাকুর-এর সঙ্গে পাঁচ বন্ধুর এক বন্ধু হিসেবে অভিনয় করেন। তাঁর ঝুলিতে আছে প্রায় ১৩০টির মতো ছবি। তবে গত ১১ বছর ধরে কর্মহীন। 

দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন অবস্থায় শরীরে বাসা বেধেছে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগ। রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তাঁর দুই পায়ে গ্যাংগ্রিন হয়েছে। সম্প্রতি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রক্ষা পেয়েছে তুহিনের দুটো পা। অভিনেতা এখন বর্ধমানের ছেলের বাড়িতে রয়েছেন। একমাত্র ছেলের আয়ে কোনোমতে দিন কাটে তাঁদের। অর্থের অভাবে ঠিকভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না তিনি। 

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আক্ষেপ করে তুহিন বলেন, “প্রত্যেক মাসে ওষুধের খরচ ২০ হাজার টাকা। আমার কোনো আয় নেই। তাই গত দুইবছর ধরে ওষুধ খেতে পারছি না। চিকিৎসকেরা বকাবকি করছেন। কিন্তু কী করব?’

কথার সূত্র ধরে তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮৬ সালের কথা খুব মনে পড়ছে। ‘পথভোলা’তে আমরা পাঁচ বন্ধু প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তাপস পাল, অভিষেক চট্টোপাধ্যায়, শক্তি ঠাকুর আর আমি। এঁদের মধ্যে তাপস, অভিষেক, শক্তিদা চিরবিদায় নিয়েছেন। বুম্বা ১০০ বছর বাঁচবে। এবার হয়তো আমার পালা!’  

শতাব্দী রায়, অশোক বিশ্বনাথনসহ বিভিন্ন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন তুহিন। তবুও কেন সিনেমার কাজ পাচ্ছেন না তার সঠিক কারণ তিনিও জানেন না। অভিনেতার কথায়, ‘নিজেও জানি না, কেন আর কেউ ডাকেন না। আমার সময় বিনোদন দুনিয়ায় পরিচালকরাই সব ছিলেন। তাঁরাই অভিনেতা বাছাই করতেন। এখন সেই রীতি বদলে গিয়েছে। ইদানীং, পরিচালকদের অন্যের কথা শুনে চলতে হয়।’