তেলআবিবে লাখো মানুষের সমাবেশে ট্রাম্পের প্রশংসা

তেলআবিবে লাখো মানুষের সমাবেশে ট্রাম্পের প্রশংসা

সংগৃহীত

হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের সম্ভাব্য মুক্তির প্রাক্কালে কূটনৈতিক তৎপরতা ও মানবিক সংকট তীব্র হয়েছে। গাজা যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের ফেরানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য মিশরের শারম আল-শায়েখে একটি শীর্ষ সম্মেলন নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ প্রায় ২০ জন নেতা সোমবার অংশ নিবেন।

সমঝোতা অনুযায়ী, হামাসকে সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪৮ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত বলে মনে করা হয়।

এই মুক্তির দাবিতে তেলআবিবে লাখ লাখ মানুষ এক বিশাল সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, "জিম্মিরা ঘরে ফিরে আসছে।" তিনি এই সমঝোতাকে সম্ভব করে তোলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন, যার জবাবে অনেকে 'ধন্যবাদ, ট্রাম্প' বলে শ্লোগান দেন। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নাম উল্লেখ করা হলে অনেকে দুয়ো ধ্বনি দেন।

তেলআবিবে সমাবেশে উপস্থিত আভিভ হাভরন, যার পরিবারের সাত সদস্য অপহৃত হয়েছিলেন, বিবিসিকে বলেন, "এটা কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে তারা ফিরে আসছে। এটা ছাড়া আমরা আমাদের জীবন আবার শুরু করতে পারি না।"

 

ওদিকে, ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনা সরে যাওয়ার পর গত দুই দিনে প্রায় ৫ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ গাজার উত্তরাঞ্চলে ফিরে এসেছেন। তবে ঘরবাড়ি হারানো এই ফিলিস্তিনিরা ফিরে এসে তাদের ধ্বংসস্তূপ দেখছেন। আইনজীবী মোসা আলদৌস বলেন, "এখানে আর কোনো ঘর নেই। সব শেষ।"

 

অন্যদিকে, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি) জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি সমঝোতা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক ত্রাণবাহী লরি এখনো গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে যে গাজার প্রায় ৫ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মধ্যে রয়েছে। ইসরায়েল অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দুর্ভিক্ষের দায় সাহায্য সংস্থা ও হামাসের ওপর চাপিয়েছে।

মিশরের প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, যুদ্ধ অবসানের সমঝোতা চূড়ান্ত করতে সোমবারের বৈঠকে ট্রাম্প ছাড়াও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার অংশ নিবেন। তবে মিশরে যাওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল সফর করবেন।

এদিকে গাজায় ইসরায়েলি সেনারা যেসব এলাকা ছেড়ে গেছে, সেখানকার নিয়ন্ত্রণের জন্য হামাস তাদের যোদ্ধাদের মোতায়েন করেছে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে হামাস ও গাজার কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।