চুল পড়া কমাতে অ্যালোভেরা-আমলকি এভাবে ব্যবহার করুন
ছবি: সংগৃহীত
অনেকেই সকাল শুরু করেন উপকারি পানীয় পানের মাধ্যমে। হালকা গরম পানিতে সমপরিমাণ অ্যালোভেরা আর আমলকির রস মিশিয়ে পান করেন। এতে শরীরে জমে থাকা টক্সিন সহজেই বেরিয়ে যায়। কিন্তু এই দুটো উপাদান কখনো একসঙ্গে মিশিয়ে মাথায় মেখেছেন?
আয়ুর্বেদ বলছে, অ্যালোভেরা আর আমলকি দুটো উপাদানই চুলের জন্য উপকারি। চুল পড়া, খুশকি, চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা রাখে এটি। কীভাবে চুলের যত্নে অ্যালোভেরা ও আমলকি ব্যবহার করবেন জানুন-
অ্যালোভেরাতে কী আছে?
১. মাথার ত্বক, চুল আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা। তাই উপাদানটি ব্যবহারে চুল সহজে রুক্ষ হয়ে পড়ে না। এটি চুলে অনেকটা প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের মতো কাজ করে।
২. মাথার ত্বকে অস্বস্তি কম হলে চুল পড়ার পরিমাণ হ্রাস পায়। মাথা কম চুলকায়। ফলিকলে আঘাত লাগার আশঙ্কাও কমে। এই সবগুলো কাজেই সাহায্য করে অ্যালোভেরা।
৩. হেয়ার ফলিকলের জন্য অনেকটা উদ্দীপকের মতো কাজ করে অ্যালোভেরা। যা নতুন চুল গজাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
আমলকিতে কী আছে?
১. আমলকিতে ভিটামিন সি রয়েছে যা কোলাজেন উৎপাদনের হার বৃদ্ধি করে। হেয়ার ফলিকল মজবুত করে এটি। নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।
২. মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে আমলকি। অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান রয়েছে এতে। এটি খুশকি এবং মাথার ত্বকের সংক্রমণ রুখে দিতে পারে।
৩. অকালপক্বতা রোধ করে আমলকি। নিয়মিত চুলে আমলকির রস মাখলে চুলের স্বাভাবিক রং ধরে রাখা সহজ হয়।
অ্যালোভেরা-আমলকির হেয়ার মাস্ক তৈরি করতে কী কী লাগবে?
আমলকি বাটা: ২ টেবিল চামচ
অ্যালোভেরা জেল: ২ টেবিল চামচ
নারকেল তেল: ২ টেবিল চাম
কীভাবে তৈরি করবেন?
প্রথমে ব্লেন্ডারে আমলকি ও অ্যালোভেরা জেল ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এর সঙ্গে মেশান নারকেল তেল। যাদের ত্বক স্পর্শকাতর, তারা নারকেল তেলের বদলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।
এই মিশ্রণ মাথায় মেখে আধাঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে দু’বার এই প্যাক ব্যবহারে চুল পড়ার সমস্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।