পোকা-মাকড়ের ব্যবসা করা যাবে?
ছবি: সংগৃহীত
আমার নাম হাবিব খান। আমি ঢাকার উত্তরায় বসবাস করি। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি ব্যবসার চিন্তা করছি। আমরা ভাবছি, সাপ, বিচ্ছু, মাকড়শা ও টিকটিকির খামার করব। আমরা জানতে পেরেছি, বিদেশি ওষুধ কোম্পানিগুলো এসব বিষাক্ত প্রাণীর বিষ সংগ্রহ করে এবং উচ্চ মূল্যে তা ক্রয় করে। এসব বিষ ক্যান্সারসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। আমরা আশা করছি, সরকার আমাদের খামার করার অনুমতি দেবে। আমার প্রশ্ন হলো, সরকার যদি অনুমতি দেয়, তবে আমরা কি এসব পোকা-মাকড়ের ব্যবসা করতে পারব? এই বিষয়ে শরিয়তের বিধান কী?
প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, শূকর ছাড়া অন্যান্য হারাম প্রাণী ও পোকা-মাকড় ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান হলো, যদি এসব প্রাণীর মাধ্যমে বৈধ উপকার লাভ করা যায়, তবে এসব প্রাণী ও তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েজ। যেমন মানুষের জন্য উপকারী ওষুধ তৈরি করা। আর তা দ্বারা যদি বৈধ উপকার লাভ করা না যায়, তবে তার ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়। সুতরাং আপনাদের খামারে উৎপাদিত পোকা-মাকড় যদি এমন ব্যক্তিদের হাতে হস্তান্তর করে যারা এর আইনসদ্ধি ও উপকারী কাজে ব্যবহার করবে, তবে তা জায়েজ হবে। নতুবা জায়েজ হবে না।
উল্লেখ্য, ইসলাম পোকা-মাকড় ইত্যাদি হারাম প্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও তা থেকে তৈরী ওষুধ প্রয়োজনে দেহের বাহ্যিকভাগে ব্যবহারের অনুমতি দিলেও একান্ত অপারগতা ছাড়া তা খেতে কঠোরভাবে নিষেধ করে। যদি এসব ওষুধের বিকল্প হালাল ওষুধ থাকে, তবে এমন ওষুধ ব্যবহার করা বৈধ নয়।
ইমাম শামি (রহ.) বলেন, সাপ, ইঁদুর, টিকটিকি, গুইসাপ, কচ্ছপ ও কনফুস (ইঁদুর জাতীয় প্রাণী) ইত্যাদি পোকামাকড় বিক্রয় করা জায়েজ নয়। এমনইভাবে যে প্রাণী ও তার চামড়া দ্বারা উপকার পাওয়া যায় না বিক্রি করা জায়েজ নয়। মাছ ছাড়া অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীও বিক্রি করা জায়েজ নয়। এসব প্রাণীর অর্থমূল্য থাকে (অর্থাৎ বৈধ লেনদেন ও উপকারী ব্যবহার থাকে) তাহলে তা বিক্রি করা জায়েজ। যেমন: সিকুনকুর (একটি সরীসৃপ প্রাণী) ও মাম্মালের চামড়া ইত্যাদি। যদি তার বাজারমূল্য তথা বৈধ ব্যবহার না থাকে, তবে তা ক্রয়-বিক্রয় জায়েজ নয়। যেমন ব্যাঙ ও কাঁকড়া। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৫/৬৮)