ঢাকার কেরানীগঞ্জে বাড়িওয়ালার সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়া, ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা
প্রতিকী ছবি
ঢাকার কেরানীগঞ্জে বাড়িওয়ালার সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ভাড়াটিয়া মো. রাব্বি (২২) নামের এক যুবক। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন।
ওসি জানান, সোমবার রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের আব্দুলাহপুর কান্দাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বি পিরোজপুর জেলার কাউখালি থানার দাসের কাঠি গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে।
সে বর্তমানে আব্দুলাহপুরের কান্দাপাড়া এলাকায় ওসমান মিয়া বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
তিনি আরো জানান, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করা রাব্বির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয়রা জানান, দেড় মাস ধরে এই দম্পতি এলাকার ওসমান মিয়ার বাড়িতে তারা ভাড়া থাকেন। এই বাড়িতে আসার পর থেকে বাড়িওয়ালা ওসমানের সঙ্গে নাদিয়ার পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়। এ বিষয়টি জানার পর রাব্বির সঙ্গে তার স্ত্রী নাদিয়ার সঙ্গে নিয়মিত ঝগড়া হতো। রাব্বি মাস শেষে বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
কিন্তু তার স্ত্রী নাদিয়া বাড়ি ছেড়ে যেতে নারাজ। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে নাদিয়া ঘর থেকে বের হয়ে গেলে রাব্বি ঘর ফাঁকা পেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে থাকতে পারে।
এলাকাবাসী আরো জানায়, ওসমান মিয়া প্রভাবশালী, সে অনেক টাকার মালিক, টাকা দিয়ে সব জামেলা মিটিয়ে দেবে। তার পরকীয়ার জন্য একটি মায়ের বুক খালি হলো।
এর আগেও ওসামান মিয়া ছোট্ট একটি মেয়ের সঙ্গে খারাপ কাজ করে পরে টাকা দিয়ে ধামাচাপা দেয়। এ ঘটনাও ধামাচাপা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তারা জানান।
নিহতের স্ত্রী নাদিয়া আক্তার এলাকাবাসীর কাছে পরকীয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, তিন মাস আগে আমরা প্রেম করে বিয়ে করেছি। মাঝে মাঝে আমাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হতো। সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে রাব্বি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমাদের এত সখের বিয়ে, আমি এখন কার সঙ্গে থাকব।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ওসমান মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।