নারী সিনেটরের যে কাণ্ডে অস্ট্রেলিয়ার সংসদে উত্তেজনা

নারী সিনেটরের যে কাণ্ডে অস্ট্রেলিয়ার সংসদে উত্তেজনা

সংগ্রহীত ছবি

অস্ট্রেলিয়ার সংসদে সোমবার এমন এক দৃশ্য তৈরি হয়, যা মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। বিল উত্থাপন আটকে দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সিনেটর পলিন হ্যানসন কালো বোরকা পরে সংসদে আসেন। তার এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সহকর্মী আইনপ্রণেতারা এটাকে সরাসরি ‘বর্ণবাদী’ বলে আখ্যা দেন।

পলিন হ্যানসন অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী ‘ওয়ান নেশন’ দলের নেত্রী। তিনি বহু বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় পূর্ণ মুখাবরণ (ফেস কাভারিং) নিষিদ্ধ করার দাবি করে আসছেন। সোমবারও তিনি সেই বিলটি উত্থাপন করতে চেয়েছিলেন। অন্যরা তা আটকে দিলে তিনি হঠাৎ বোরকা পরে এসে নিজের আসনে বসে পড়েন।

এতে সংসদজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়ান গ্রীন্স দলের সেনেট অধিনায়ক লারিসা ওয়াটারস বলেন, ‘এটা ধর্মীয় মানুষদের প্রতি চরম অসম্মান।’ তিনি আরও বলেন, এটা বর্ণবাদী এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ।

সরকারি দলের সিনেট নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ংও তার আচরণকে ‘অসম্মানজনক’ বলে নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এই কক্ষে (সিনেটে) প্রবেশ করা আমাদের জন্য বড় এক দায়িত্ব। আমরা নানা বিশ্বাস ও পটভূমির মানুষের প্রতিনিধিত্ব করি। তাই সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

হ্যানসন বোরকা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে অধিবেশন স্থগিত করা হয়। এটি প্রথম ঘটনা নয়। ২০১৭ সালেও তিনি নিরাপত্তার অজুহাতে বোরকা পরে সংসদে প্রবেশ করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, বোরকা ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’।

হ্যানসন ইসলামকে ‘অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতির সঙ্গে অসঙ্গত’ বলে মন্তব্য করেছেন। সাম্প্রতিক জরিপে তার দল ‘ওয়ান নেশন’ প্রায় ১৮ শতাংশ সমর্থন পাচ্ছে, যা এ পর্যন্ত তাদের সর্বোচ্চ।

গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সরকারের একজন দূত বলেন, ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষ নিয়ন্ত্রণে তার দেশের সরকার ব্যর্থ।