ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিএনপির দুপক্ষের সমাবেশ, ১৪৪ ধারা জারি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিএনপির দুপক্ষের সমাবেশ, ১৪৪ ধারা জারি

প্রতিকী ছবি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিএনপির দুপক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। 

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল স্বাক্ষরিত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আদেশ জারি করেন। আদেশটি ‘ইউএনও আলফাডাঙ্গা’ নামের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও রাসেল ইকবাল।

তিনি জানান, জারিকৃত পত্র অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তায় প্রশাসন থেকে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজনে শনিবার (২৯ নভেম্বর) পৌরসদরের আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। 

অপরদিকে, শনিবার বিকেল ৩টায় আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের আরিফুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবি এবং গত ৭ নভেম্বর বিপ্লবী সংহতি দিবসে বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির দুইপক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনহাজুর রহমান লিপনের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ভিপি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর। বিএনপির দুইপক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না ঘটে সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

১৪৪ ধারা জারির আদেশে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জনসাধারণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পৌরসভার স্কুল, মাঠ ও বাজার এলাকায় ২৯ নভেম্বর সকাল ১০টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারার আদেশ জারি করা হলো। 

এতে আরো বলা হয়, উক্ত সময়ে উল্লিখিত এলাকায় সকল প্রকার সভা সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য আগ্নেয়াস্ত্র ও সকল প্রকার দেশীয় অস্ত্র ইত্যাদি বহনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান কিংবা চলাফেরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।

এ ব্যাপারে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম অনুসারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান খসরু জানান, আমাদের এক সপ্তাহ আগে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও দলীয় প্রার্থী বিজয়ী করার লক্ষ্যে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। হঠাৎ করে দেখলাম ঝুনু সমর্থকরা প্রতিবাদ সমাবেশের জন্য মাইকিং করছে। দুইপক্ষের সমাবেশের জন্য প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। আমাদের সমাবেশ করব কি, করব না, বিষয়টি শনিবার সকালে জেলা কমিটির সঙ্গে কথা বলে জানাতে পারব। 

শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু সমর্থিত আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খোসবুর রহমান খোকন বলেন, উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে এবং গত ৭ নভেম্বর বিপ্লবী সংহতি দিবসে বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির দুইপক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনহাজুর রহমান লিপনের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।

তবে যেহেতু প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে, সেহেতু আমরা কর্মসূচি সফল করার জন্য মাঠে থাকব। 

জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জাতীয় ও স্থানীয় দলীয় সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির বর্তমান সহ-সভাপতি, ভিপি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। 

গত ২১ অক্টোবর ১০ বছর পর ফরিদপুর-১ আসনের মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা এবং পৌর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে জেলা বিএনপি। তিনটি উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটিতে প্রাধান্য পায় কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সভাপতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম সমর্থকরা। এ নিয়ে নাসির মিয়া ও ভিপি ঝুনু মিয়ার মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করে গ্রুপিং। কমিটি ঘোষণার পর থেকে বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলায় কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল অব্যাহত রাখে ভিপি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। 

গত ৭ নভেম্বর বিপ্লবী ও সংহতি দিবসে বোয়ালমারীতে আলাদা আলাদা সমাবেশ ডাকে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম গ্রুপ ও শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপ। এক পর্যায়ে সমাবেশ রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ নেয়। সহিংসতায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনহাজুর রহমান লিপনসহ দুইপক্ষের ১৫-২০ জন কমবেশি আহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুইপক্ষের প্রধান দুই নেতাকে আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেন স্থানীয় থানায়।