ঘরেই তৈরি করুন রেস্টুরেন্ট-স্টাইলে নিহারি

ঘরেই তৈরি করুন রেস্টুরেন্ট-স্টাইলে নিহারি

ছবিঃ সংগৃহীত।

নিহারি খেতে খুব মজা হলেও এর বানানোর প্রক্রিয়া খুব জটিল মনে করায় রেস্টুরেন্টে ছুটতে হয় স্বাদ আস্বাদনের জন্য।কিন্তু বাসায় সহজে নিহারি বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন, জেনে নিন খুব ঝামেলা ছাড়া নরম ও রেস্টুরেন্ট-স্টাইল স্বাদের নিহারি কীভাবে বানাবেন।

রেসিপি (গরু/খাসি)

গরু/খাসি ১ কেজি (হাড়সহ পায়া) 

মশলার মিশ্রণ (নিহারি মসলা)

ধনে গুঁড়া ২ টেবিল চামচ

জিরা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ

হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ

লাল মরিচ গুঁড়া দুই টেবিল চামচ (ঝাল অনুযায়ী)

গোল মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ

জায়ফল-জয়ত্রি গুঁড়া ১ চিমটি

দারুচিনি গুঁড়া আধা চা চামচ

এলাচ গুঁড়া চা চামচ তিনভাগের একভাগ

লবণ স্বাদমতো

পেঁয়াজ বাটা আধা কাপ

রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ

আদা বাটা ১ টেবিল চামচ

ঘি/তেল আধা কাপ

গরম পানি প্রয়োজনমতো

আটা ২ টেবিল চামচ

পানি আধা কাপ (ভালোমতো মিশিয়ে নিতে হবে)

গার্নিশ

আদা কুচি

ধনেপাতা

লেবু

কাঁচা মরিচ বেশ কয়েকটা

রান্নার প্রণালি

একটি বড় হাঁড়িতে ঘি/তেল গরম করে পেঁয়াজ বাটা দিয়ে হালকা বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। এরপর আদা-রসুন বাটা দিয়ে আরও ২ মিনিট ভাজুন। সব মশলা দিয়ে একটু পানি ছিটিয়ে ৪ বা ৫ মিনিট কষিয়ে নিন। এবার মাংস দিয়ে ভালো করে কষান (১০–১৫ মিনিট) যতক্ষণ না মাংস থেকে তেল ছেড়ে আসে।

মাংস কষানো হলে গরম পানি দিয়ে ঢেকে দিন যেন মাংস ডুবে যায়। চুলার আঁচ একদম কমিয়ে ২–৩ ঘণ্টা ঝিমিয়ে রান্না করুন। রান্না প্রায় শেষ হলে আটা-পানি দিয়ে সামান্য মিশ্রণ করে আস্তে আস্তে ঢেলে নাড়ুন। আবার কম আঁচে ১৫–২০ মিনিট ঢেকে রান্না করুন। নিহারির স্যুপ ঘন ও মাখামাখা হয়ে যাবে।

এরপর অল্প ঘিয়ে দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ ভেজে গরম অবস্থায় নিহারির উপর ঢেলে দিন। স্বাদ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। উপরে আদা কুচি, ধনেপাতা, লেবু, কাঁচা মরিচ ছড়িয়ে দিন। মনে রাখবেন যত ধীরে রান্না হবে, স্বাদ তত দারুণ হবে। আটা বেশি দেবেন না, না হলে খুব বেশি ঘন হয়ে যাবে।

উপকারিতা

নিহারি খাওয়ার উপকারিতা আছে, কারণ এটি প্রোটিন সমৃদ্ধ। নিহারিতে মাংস থাকে, যা শরীরের পেশি গঠন, ক্ষত সারানো ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক উচ্চমানের প্রোটিন দেয়। এই খাবার হাড় ও জোড়ের জন্য ভালো। হাড়সহ মাংস লম্বা সময় রান্না করার ফলে কোলাজেন, জেলাটিন, মিনারেল (ক্যালসিয়াম, ফসফরাস) স্যুপে মিশে যায়—যা জোড়ের ব্যথা, হাড় মজবুত করা, ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী হতে পারে।