কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর তীরে সীমানা নিয়ে উত্তেজনা, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর তীরে সীমানা নিয়ে উত্তেজনা, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

সংগ্রহীত ছবি

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর তীরে সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে গত ছয়দিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ -বিআইডব্লিউটিএর নদী বন্দরের সীমানা চিহ্নিতকরণে এগিয়ে আসার পর থেকেই স্থানীয় খতিয়ানভুক্ত জমির মালিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেছেন।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো আশরাফুর রহমান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে কস্তুরাঘাট এলাকায় সীমানা নির্ধারণে গেলে জমির মালিক দাবি করা স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দিনভর সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন জ্বালানো এবং রাস্তায় কাটা গাছ ফেলে বিক্ষোভ চালান এলাকাবাসী। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে পরিবেশ উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউসুফ এবং অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদ জমির কাগজপত্র দেখালে সীমানা নির্ধারণ কার্যক্রম স্থগিত করে বিআইডব্লিউটিএ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্থান ত্যাগ করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পারুল নামের এক নারী বলেন- ‘আমাদের জমি আছে, সব কাগজপত্র আছে।

আদালত এখানে কোনো স্থাপনা না করতে আদেশ দিয়েছেন। তারপরও বিআইডব্লিউটিএ কাঁটাতার আর পিলার বসাতে চায়- এটা আমরা মানি না। বহুবার উচ্ছেদ করেছে। এবার আর পিছু হটব না।

আরেক বাসিন্দা সারা খাতুন বলেন- ‘অনেক কষ্টে জমি কিনেছি। স্থানীয় হয়েও বসতবাড়ি করতে দিচ্ছে না। লাঠিসোঁটা নিয়ে নেমেছি- হয় মারব, না হয় মরব। আমরা শহীদ হতে এসেছি জমি রক্ষায়।’

অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদ অভিযোগ করে বলেন- ‘বাকখালী নদী তীরের ৫০ একর জমি খতিয়ানভুক্ত।

এ জমিতে আমরা ২৬ জন আইনজীবীসহ কয়েক শ মালিক রয়েছি। জমিতে সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও আদালতের আদেশ অমান্য করে বিআইডব্লিউটিএ জোরপূর্বক কাজ শুরু করেছে। অতীতেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে উচ্ছেদ চালিয়েছে।’ তবে এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিআইডব্লিউটিএ বাঁকখালী নদী পুনরুদ্ধার অভিযানে প্রায় সাড়ে চার শ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৬৩ একর জমি দখলমুক্ত করে।