মন খারাপের দিনগুলোতে করণীয়

মন খারাপের দিনগুলোতে করণীয়

ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবনের কিছু কিছু সময় এমন আসে, যখন ব্যর্থতা, দুঃখ, দুর্দশা, হতাশা মানুষকে চার দিক থেকে ঘিরে ধরে। তখন মানুষের কাছে জীবনটাকে খুব কঠিন মনে হয়। মানুষ খুব অসহায় বোধ করে। তাদের চারপাশগুলো বদলে যায়, আস্থার জায়গাগুলোতে আশাহত হয়, যা তাদের আরো বেশি দূঃখে ফেলে দেয়। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কোরআন হাদিসের কিছু আমল অুনসরণ করা যেতে পারে। নিম্নে সেগুলোর কয়েকটি তুলে ধরা হলো

আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা : পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে তিনি তার জন্য যথেষ্ট। (সুরা তালাক, আয়াত : ৩)

এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, যেকোনো পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা গেলে, তা থেকে উত্তরণের পথ সহজ হয়ে যায়। ক্ষেত্র বিশেষে মহান আল্লাহ সে দুঃখের বিনিময়ে বড় কোনো প্রতিদান দান করেন। 

ধৈর্যধারণ করা : দুঃখ-কষ্ট মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় যেসব বান্দারা মহান আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে ধৈর্য ধারণ করতে পারে, মহান আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৫)

তাকওয়া অবলম্বন করা : পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তাকে (সমস্যা থেকে উত্তরণের) কোনো না কোনো পথ বের করে দেবেন। (সুরা তালাক, আয়াত : ২) আর আল্লাহ যদি কারো বিপদে উত্তরণের রাস্তা খুলে দেন, পৃথিবীর কোনো শক্তি তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। 

হতাশাকে প্রশ্রয় না দেওয়া : বিপদাপদ ও খারাপ সময় মানুষের জীবনের অংশ, এতে সাময়িক দূঃখ পেলেও হতাশ হওয়া চলবে না। কেননা মুমিনের জন্য হতাশ হওয়া নিষেধ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, সে [ইবরাহিম (আ.)] বলল, পথভ্রষ্ট ছাড়া আর কে তার প্রতিপালকের রহমত থেকে নিরাশ হয়! (সুরা হিজর, আয়াত : ৫৬)

এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া পথভ্রষ্টদের কাজ। মুমিন কখনো নিরাশ হয়, হতাশ হয় না, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে। 

আল্লাহর সাহায্য চাওয়া : আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে ধৈর্য-ধারনের পাশাপাশি নামাজের মাধ্যমেও সাহায্য চাওয়া যেতে পারে। কেননা পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় তা বিনয়ী ছাড়া অন্যদের উপর কঠিন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৪৫)

দোয়া করা : মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব নয়। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহর কাছে দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার বিকল্প নেই। মাজমাউজ জাওয়ায়িদ, তাবরানি ও কানযুল উম্মাল নামক গ্রন্থে অসহায় মুহূর্তে করার মতো একটি সুন্দর দোয়া পাওয়া যায়।

যদিও তা সরাসরি মহানবী (সা.)-এর দোয়া কিনা বা হাদিসের সনদ শতভাগ বিশুদ্ধ কিনা, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় আছে। আব্দুল্লাহ ইবনু জাফর (রা.) বর্ণনা করেন, যখন আবু তালিব ইন্তিকাল করলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ পায়ে হেঁটে (তায়েফের) মানুষের কাছে গেলেন এবং তাদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন; কিন্তু তারা তাঁর দাওয়াত কবুল করল না।

এরপর তিনি একটি গাছের কাছে গেলেন, দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন এবং তারপর এই দোয়া করলেন: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আমার শক্তির দুর্বলতা, আমার কৌশলের অভাব এবং মানুষের সামনে আমার অসহায় অবস্থার কথা পেশ করছি। হে পরম দয়ালু! তুমি আমার প্রতি দয়া কর। 

তুমি আমাকে কার হাতে সমর্পণ করবে? এমন কোনো শত্রুর কাছে যে আমাকে দেখে কঠোর ও তীক্ষ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে? নাকি এমন কোনো আত্মীয়ের হাতে যার করতল তুমি আমার ব্যাপারে ক্ষমতাশালী করে দিয়েছ? হে পালনকর্তা! তুমি যদি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট না হও, তাহলে আমার কোনো চিন্তা নেই। তবে তোমার দান করা নিরাপত্তা ও সুস্থতা আমাকে ঘিরে রেখেছে (এবং তা আমার কাছে অধিক প্রিয়)। সুতরাং আমি তোমার সেই মুখমণ্ডলের নূরের আশ্রয় চাই, যে নূরের আলোতে আকাশের নক্ষত্রগুলো উদ্ভাসিত হয়েছে; যার আলোতে সব অন্ধকার দূর হয়েছে এবং যার বরকতে দুনিয়া ও আখিরাতের সব কাজ সুশৃঙ্খল হয়েছে, এই থেকে যে তোমার ক্রোধ আমার ওপর নেমে আসে, বা তোমার অসন্তুষ্টি আমার ওপর পতিত হয়। তোমাকে সন্তুষ্ট করা আমার দায়িত্ব, যতক্ষণ না তুমি সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হও। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া কেউ কল্যাণ করতে পারে না, আপনার সাহায্য ছাড়া কেউ অকল্যাণ ঠেকাতে পারে না। (কানযুল উম্মাল [উর্দু], হাদিস : ৫১২০)

দরুদ ও ইস্তেগফার করা : হাদিস শরীফে মহানবী (সা.) অধিকহারে দরুদ পাঠ ও ইস্তিগফারকে চিন্তা ও কষ্ট দূর হওয়ার মাধ্যম হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। (তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৭, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৮১৯)