ডিন পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব নিলেন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য
ফাইল ছবি
রাকসু প্রতিনিধিদের তোপের মুখে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছয় ডিন। ফলে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যরা এ পদের দায়িত্ব নিয়েছেন।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতেখার আলম মাসুদ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
রেজিস্ট্রার বলেন, আপত্তি ও কিছু বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে ডিনরা অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ফলে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদ্বয় এসব পদের দায়িত্ব নিয়েছেন।
বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব, আইন ও ব্যবসা অনুষদে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন এবং সামাজিক বিজ্ঞান ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের দায়িত্ব পালন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. ফরিদ খান।
এর আগে, ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচন ডিনদের মেয়াদ শেষ হয়। তবে আসন্ন ভর্তি পরীক্ষা ও নির্বাচন দিতে না পারায় এই ডিনদের একমাস সময় বৃদ্ধি করে উপাচার্য। তবে গত ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী দোসর অ্যাখ্যা দিয়ে এসব ডিনদের পদত্যাগ দাবি তোলে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। পদ থেকে সরে যেতে নানাভাবে চাপ দেন তিনি। এ ঘটনায় সেদিন রাতেই উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব পালনে অপারগতার আনুষ্ঠানিক কথা জানান সংশ্লিষ্ট ডিনরা।
দায়িত্ব পালনে অপারগ ডিনরা হলেন- আইন অনুষদের আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক নাসিমা আখতার, ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক এ এস এম কামরুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক এস এম একরাম উল্লাহ, প্রকৌশল অনুষদের অধ্যাপক বিমল কুমার প্রামাণিক এবং ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক এ এইচ এম সেলিম রেজা।
ড. এক্রাম উল্লাহ বলেন, আমাদের সময় শেষ। উপাচার্য অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তবে অনেকে আপত্তি তোলায় আমি এ দায়িত্ব থেকে সরে এসেছি।
এদিকে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের হুমকি ও দপ্তরে তালা ঝুলানোর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউট্যাব বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও ছাত্রদল।
যৌথ বিবৃতিতে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী ও সর্দার জহুরুল বলেন, শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার হুমকিমূলক বক্তব্য অছাত্রসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশের পরিপন্থী। একজন ছাত্র/ছাত্রনেতা হিসেবে বারবার শিক্ষকদের সাথে অশোভন ও মারমুখী আচরণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল। জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত 'তালা ঝুলানো' সংস্কৃতি আমাদের ফ্যাসিবাদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। শহিদ জোহার পবিত্র বিদ্যাপীঠে সালাউদ্দিন আম্মারের মত মব-সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার অপচেষ্টা চালালে তা প্রতিহত করা হবে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইউট্যাবের সভাপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি বিরাজ করছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমরা সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাই। ৫ আগস্টের পর দেশে ন্যায্যতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সৃষ্টি হয়েছে। সেই অঙ্গীকার উপাচার্যকে বাস্তবায়ন করতে হবে। মব সৃষ্টি করে কোন অপরাধের শাস্তি প্রদান গ্রহণযোগ্য নয়। যারা জুলাইয়ের চিহ্নিত অপরাধী তাদের শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।