দুর্গম গ্রামে গারোদের বড় দিনের উৎসবে এমরান সালেহ প্রিন্স

দুর্গম গ্রামে গারোদের বড় দিনের উৎসবে এমরান সালেহ প্রিন্স

সংগ্রহীত ছবি

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, এটি একটি জাতির নতুন করে জেগে ওঠার মুহূর্ত। রাজসিক অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে তিনি আজ আর শুধু একটি রাজনৈতিক নেতৃত্ব নন, তিনি জনগণের আশা-ভরসার নাম। লাখো মানুষের উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট বার্তা, এই দেশ তারেক রহমানকে নেতৃত্বে দেখতে চায়।

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নে গারো পল্লী গোসাইপুর গ্রামে বড় দিনের আয়োজনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

বড় দিন উৎসবে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে জনগণ আজ নিরাপত্তাহীন, দিশেহারা। মানুষের জান-মাল নিরাপদ নয়, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এই সংকটের সময়ে জনগণ একজন অভিভাবক খুঁজছে, যিনি নিরাপত্তা দেবেন, সম্মান দেবেন, উন্নত ও মানবিক জীবন নিশ্চিত করবেন। সেই নামটাই আজ মানুষের মুখে মুখে, তারেক রহমান।

আজ জনগণ প্রস্তুত নতুন সংগ্রামের জন্য। তাঁর ভাষণের সেই দৃপ্ত উচ্চারণ—“আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে, আমার দেশের জন্য, আমার দেশের মানুষের জন্য”—আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। কারণ এই কণ্ঠে ছিল দায়িত্ব, ছিল দিশা, ছিল আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা।

তিনি বলেন, আজ জনগণ প্রস্তুত গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও নিরাপদ জীবনের লড়াইয়ে।

আর সেই সংগ্রামের নেতৃত্ব দিতে জনগণ নিজেরাই এগিয়ে দিচ্ছে তারেক রহমানের হাত। জনমনে আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তারেক রহমান মানেই পরিকল্পনা। তারেক রহমান মানেই নিরাপত্তা। তারেক রহমান মানেই গণতন্ত্র ও উন্নত বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, এই দেশ আর অন্ধকারে থাকতে চায় না।

এই দেশ চায় পরিকল্পিত রাষ্ট্র, মানবিক রাজনীতি ও জনগণের সরকার।

বড় দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রিন্স বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে। এই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিএনপি সম্প্রীতি , সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এর আগে, গারো পাহাড় সংলগ্ন সীমান্তবর্তী দুর্গম গ্রাম গোসাইপুর গ্রামে পৌঁছালে এমরান সালেহ প্রিন্সকে গ্রামবাসী গারো নারী পুরুষ, যুবক, শিশু ফুল ছিটিয়ে, গারো ভাষায় স্বাগত গান গেয়ে অভ্যর্থনা জানান এবং মিছিল সহকারে তাঁকে অনুষ্ঠানস্থল গ্রামের গির্জা প্রাঙ্গণে নিয়ে আসেন।

অনুষ্ঠানে গারো খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি । এ সময় তারা বড় দিনের আনন্দ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

আয়োজনস্থলে উপস্থিত হয়ে নেতারা গারো খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের ব্যক্তিগত খোঁজখবর নেন এবং তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন। পাশাপাশি স্থানীয়দের জীবনযাপন, শিক্ষা ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এসময় তারা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। প্রিন্সসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে গ্রামবাসীর মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করেন।

অনুষ্ঠানে সেন্ট পল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সাবেক প্রিন্সিপাল মিস্টার কেনুস ম্রং, জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দল ধোবাউড়া উপজেলা শাখার সভাপতি মিসেস সবিতা থিগিদি, ধোবাউড়া উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শমুয়েল চিরান জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ধোবাউড়া উপজেলার সদস্য সপিনা ম্রং এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মনিক, ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবীর, সাবেক চেয়ারম্যান গাজীউর রহমান ও স্থানীয় ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা এবং গারো খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর উপস্থিত ছিলেন।

বড় দিনের আনন্দঘন পরিবেশে এ সময় সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর আবহ বিরাজ করে।