ঢাকার কেরানীগঞ্জে মাদরাসায় বিস্ফোরণ : গ্রেপ্তার ৩, ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার
সংগ্রহীত ছবি
ঢাকার কেরানীগঞ্জে হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় একটি মাদরাসা বিল্ডিংয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মাদরাসার পরিচালক আলামীনের স্ত্রী আছিয়া (২৮), আছিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (৩০) ও আসমানী খাতুন (৩৪)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, হাসনাবাদে একটি বাড়িতে ৪টি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আলামিন দুইটি কক্ষে ২৫-৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে উম্মাল কুরা মাদরাসাটি পরিচালনা করত।
বাকি দুইটি কক্ষে সে তার পরিবার নিয়ে বাস করত। শনিবার বিস্ফোরণের ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাসায়নিক দ্রব্য, ৪টি ককটেল সদৃশ বস্তু, একটি ল্যাপটপ ও দুইটি মনিটর উদ্ধার করে।
এ ছাড়া পুলিশের ক্রাইমসিন ইউনিট, এন্টিটেরিজম ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আল আমিনের স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদরাসার পরিচালক পলাতক আল আমিনের বিরুদ্ধে ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন থানায় ৭টি মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত আসমানী খাতুনের নামেও একাধিক মামলা রয়েছে। পলাতক আল আমিনকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে ভবনটির বাড়িওয়ালা পারভীন আক্তারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তিন বছর আগে হারুন নামে এক মুফতী মাদরাসা পরিচালনার জন্য আমার বাড়ি ভাড়া নেন। হারুন তার শালা আলামিন ও শালার স্ত্রী আছিয়াকে মাদরাসাটি পরিচালনা করার দায়িত্ব দেন।
হারুন সাহেব মাঝে মাঝে এখানে আসতেন, তবে আল আমীন ও তার স্ত্রী ভবনের একটি রুমে এখানেই থাকতেন। মাদরাসার খোঁজ-খবর নিয়মিত রাখতাম আমি। তবে মাদরাসার আড়ালে এখানে এত রাসায়নিক কিভাবে আনলো, ককটেল কিভাবে আসলো, এমন বিস্ফোরণ কিভাবে ঘটলো তা বুঝতে পারছি না।
সাত্তার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, শনিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে ভবনের চারপাশের দেয়াল উড়ে যায়।
বিস্ফোরণে একতলা ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং ছাদ ও বিমে ফাটল দেখা দেয়। পাশের আরো দুটি কক্ষেও ফাটল ধরেছে। এ ছাড়া সংলগ্ন একটি ভবনের দেয়াল ও জানালাও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আফসার উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি জানান, মাদরাসাটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মাদরাসা বন্ধ ছিল। এ কারণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বিস্ফোরণে পাশের ভবনের কিছু অংশ ফেটে গেছে। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্রও ভেঙে পড়েছে।