ইবিতে বিএনপিপন্থীদের সহায়তায় নিয়োগ পাচ্ছে ছাত্রলীগের রাকিব!
ফাইল ছবি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক কর্মীকে টাকার বিনিময়ে নিয়োগের প্রচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও শাখা ছাত্রদলের একাংশের বিরুদ্ধে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়োগ পরীক্ষার বোর্ডে থাকা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকও এতে জড়িত রয়েছেন বলে ক্যাম্পাসে অভিযোগ ছড়িয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোস্যাল স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগটিতে সহযোগী অধ্যাপকের ১ টি স্থায়ী পদের বিপরীতে ১৭ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। এতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ইবি শাখা কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম আবেদন করেছেন। তাকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখিয়ে ভাইভার জন্য ডাকা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ সকালে নিয়োগ বোর্ডে রাকিবুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একাংশ ও শাখা ছাত্রদলের একাংশ তোড়জোড় করছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অগ্রীম পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রক্রিয়ায় সঙ্গে নিয়োগ বোর্ডের এক্সটার্নাল ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম এবং ইবির ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু শিবলী মোঃ ফতেহ আলী চৌধুরী জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে গতবছর একই বিভাগে রাকিবকে নিয়োগের চেষ্টা করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনের মুখে তাকে বাদ দেওয়া হয়। গতবছরের ১০ অক্টোবর বিভাগটির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করে শাখা ছাত্রদল। রাকিবুলকে ছাত্রলীগের চিহ্নিত কর্মী ও ছাত্রলীগের অর্থ ও অস্ত্রের জোগানদাতা উল্লেখ করে তাকে নিয়োগ না দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপিও দেয় ছাত্রদল।
এ বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এইসব বিষয়ে কিছু জানি না। অনেকেই অনেক কথা বলে। সেক্ষেত্রে সত্য বা মিথ্যা খোজ নিলে আপনারা বুঝতে পারবেন’
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এইসবে জাড়িত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। সকল নিয়োগ বোর্ডের পূর্বের এমন অভিযোগ উঠে। কিন্তু সেগুলো সত্য নয়। এখানে যারা আবেদন করে তাদেরকে আমরা চিনিও না। আমরা পরীক্ষায় ভালো করা সাপেক্ষে সিলেক্ট করি। তাই এসকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
এ বিষয়ে ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু শিবলী মোঃ ফতেহ আলী চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।