অনানুষ্ঠানিক খবরে বাজার গরম উপদেষ্টার

অনানুষ্ঠানিক খবরে বাজার গরম উপদেষ্টার

সংগ্রহীত ছবি

অপেক্ষা একটি ই-মেইলের, যেটি আইসিসি থেকে আসার কথা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি)। বিশ্বক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার জবাবেই এটি সুরাহা হওয়ার কথা যে বাংলাদেশের দাবি মেনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হচ্ছে, নাকি ভারতেই অন্য কোনো ভেন্যুতে খেলার প্রস্তাব আসছে। এই অপেক্ষার মধ্যেই গতকাল রীতিমতো এক বোমা ফাটান আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি দাবি করেন, আইসিসির নিরাপত্তাদলের পক্ষ থেকে বিসিবিতে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সেই চিঠির তিনটি পয়েন্ট ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর এমন বক্তব্যে বাজার গরমও হয় বেশ। কেঁপে ওঠে পুরো ভারতীয় উপমহাদেশ। যদিও এর পর থেকে বিসিবির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে লাগাতার জানাতে থাকেন যে ও রকম কোনো চিঠিই আসেনি।

 

তবে আইসিসির সঙ্গে বিসিবির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে উপদেষ্টার উল্লেখিত বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছিল বলেও জানানো হয়। অবশ্য সন্ধ্যার পর বিসিবিও বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি খোলাসা করে। তাদের বক্তব্যের সারমর্ম, আইসিসির নিরাপত্তাদলের সঙ্গে বিসিবির যোগাযোগ হলেও সেটি আনুষ্ঠানিক কিছু ছিল না। অথচ উপদেষ্টা পরিবেশিত অনানুষ্ঠানিক খবরে ততক্ষণে ঝড় উঠে গেছে।

ভারতে খেলতে না চাওয়ার বিস্তারিত জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার আইসিসিকে দ্বিতীয় ই-মেইলটি করে বিসিবি। এর সঙ্গে নিরাপত্তা হুমকি প্রকাশ করে, এমন ৫০টি ভিডিও এবং খবরের লিংকও জুড়ে দেয় তারা। এর পর থেকে আইসিসির আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসন। এর মধ্যে অবশ্য বিসিবির সঙ্গে আইসিসির নিরাপত্তাদলের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। জানা গেছে, সেই যোগাযোগের সময়ই ভারতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা নিয়ে কিছু শঙ্কার কথা তোলেন আইসিসির নিরাপত্তাদলের প্রতিনিধিরা।

বিসিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এসব যোগাযোগের খবর বাইরে প্রকাশের অনুমতি নেই। কিন্তু বিসিবিরই অতি উৎসাহী কেউ কেউ সেগুলো উপদেষ্টার কানে পৌঁছে দেন বলে অভিযোগের সুরও শোনা গেছে পরিচালকদের মধ্যে। এ ক্ষেত্রে ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’ও ছিল বলে অনুমান করছে পরিচালকদের একাংশ। সে কারণে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগই চিঠির আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে উপদেষ্টার কানে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

গতকাল বাফুফে ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই চিঠির কথা উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আইসিসির যে নিরাপত্তাদল আছে, তারা একটি চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে তিনটি জিনিস উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তার আশঙ্কা বাড়বে।’ ওই চিঠিতে কী নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, তা-ও তুলে ধরলেন তিনি, ‘এক. মুস্তাফিজ যদি বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্ত হয়। দুই. বাংলাদেশ দলের যাঁরা সমর্থক আছেন, তাঁরা যদি জাতীয় দলের জার্সি পরে ঘোরাফেরা করেন। তিন. জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত নাকি বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে। নিরাপত্তাদলের এমন বক্তব্য সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে, ভারতে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার মতো কোনো ধরনের পরিস্থিতি নেই। আইসিসি যদি আশা করে, আমাদের সেরা বোলারকে বাদ দিয়ে আমরা ক্রিকেট দল পাঠাব, আমাদের যাঁরা সমর্থক আছেন তাঁরা বাংলাদেশের জার্সি পরতে পারবেন না, আমরা নির্বাচন পিছিয়ে দেব; এর চেয়ে উদ্ভট, অবাস্তব, অযৌক্তিক প্রত্যাশা হতে পারে না।’

আসিফ নজরুলের বক্তব্যের আগে ক্রিকবাজসহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম এমন দাবিও করে যে আইসিসির সিদ্ধান্তে ভারতেই বিশ্বকাপ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। এতে কলকাতা ও মুম্বাই থেকে ভেন্যু সরিয়ে চেন্নাই ও থিরুভানান্তাপুরামে নেওয়া হবে। এমন দাবি অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ম্যাচগুলো চেন্নাই বা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আমরা এখনো কোনো ধরনের বার্তা পাইনি, আর এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এটা বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে আলোচনার বিষয়।’