শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াত নেতা নিহত
সংগ্রহীত ছবি
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। অন্যদিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় গতকাল বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদরাসার আরবি বিষয়ে প্রভাষক ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজন জানায়, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন।
এরপর অনুষ্ঠানের সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আশরাফুল আলম রাসেল সেখানে যান। ওই সময় তিনিসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে বসেন। এক পর্যায়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক সামনের সারির চেয়ারে বসতে না পেরে শোরগোল শুরু করেন। তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরুর পর শেষে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েক শ চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে শেরপুর থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। আমরা তাঁর মৃত্যুর খবর শুনেছি।’
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. পলাশ সরকার বলেন, রেজাউল করিমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পথেই তিনি মারা যান। পরে তাঁর লাশ রাখা হয় হাসপাতাল কম্পাউন্ডে।
শেরপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল গণমাধ্যমকে বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছেন। জামায়াতের প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল বলেন, ‘পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেছে।’
শেরপুর শহরে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে গত রাতে প্রতিবাদ মিছিল করা হয়েছে। শ্রীবরদীতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হত্যাকারীদের বিচার দাবি করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে বিএনপি ও জামায়াত সংঘর্ষ : নগরীর খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের একটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান ও জামায়াতের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। রাত ১০টার দিকে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে আমবাগান এলাকায় রেললাইনের পাশে থাকা বিএনপি সমর্থিত কোকো স্মৃতি সংসদের কার্যালয়ের সামনে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এ সময় জামায়াতকর্মীরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় কার্যালয়ের সামনে স্লোগান দিলে ভেতরে থাকা বিএনপিকর্মীরা বেরিয়ে এসে পাল্টা স্লোগান দেন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
খুলশী থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পরে অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ পেয়েছি, তবে পুলিশ উপস্থিত থাকাকালে এমন ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে অবস্থা স্বাভাবিক।
ফরিদপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭ : জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের বিরোধ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। দেশীয় অস্ত্র, ইটপাটকেল নিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে চারজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলার ইসরাফিল মোল্লা এবং প্রতিবেশী শাহাবুদ্দীন মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। উভয় পক্ষই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। গত মঙ্গলবার বিকেলে ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদীতে বিএনপির নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন ইসরাফিল মোল্লা। বক্তব্য দীর্ঘ হওয়ায় শাহাবুদ্দীন মোল্লার পক্ষের এক ব্যক্তি তাঁকে কটাক্ষ করেন। এতে বৈঠকস্থলেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। ওই ঘটনার জেরে গতকাল দুপুরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ফলে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়।
ভাঙ্গা থানার ওসি মো. আব্দুল আলিম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।