শেরপুরে ভাড়া বাসায় ঝুলছিল এএসআইয়ের মরদেহ
প্রতিকী ছবি
শেরপুরে থানার সামনের ভাড়া বাসা থেকে সদর থানার এএসআই মো. শাহিনুল ইসলামের (৪০) গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
শাহিনুল ইসলাম শেরপুর সদর থানায় ৫ মাস ধরে কর্মরত ছিলেন।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, শাহিনুল ইসলামের বাড়ি পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার পিয়ারপুরের টেবিচর এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত শামসুল হক মাস্টার।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহিনুল ইসলাম স্ত্রী ও ৮ বছর বয়সী এক সন্তানকে নিয়ে শেরপুর শহরের গৃর্দানারায়নপুর মহল্লায় সদর থানার বিপরীতে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। ঘটনার আগের রাতে তিনি থানায় রাতের ডিউটি শেষে বৃহস্পতিবার সকালে বাসায় ফেরেন।
নিহতের স্ত্রী মাকসুদা পারভীনের বরাতে ওসি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে নিজ ভাড়া বাসায় শাহিনুলকে রেখে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে যান। পরে বার বার মোবাইল ফোনে কলে রিং হলেও ফোন না ধরায় তিনি বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন। বাসায় ঢুকে ডাকাডাকি ও মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখেন, তার স্বামী জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচিয়ে ঝুলে আছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ও তার ভাই মিলে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শাহিনুল ইসলামকে নিচে নামান এবং বিষয়টি শেরপুর সদর থানাকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান।
মাকসুদা পারভীন দাবি করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
তিনি বলেন, আমাদের বিয়ে হয় ২০১১ সালে। বিয়ের ৩ মাস পর থেকেই আমার স্বামীর মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।
মাঝেমধ্যে তিনি দোকান থেকে বিষ কিনে আনতেন। আমি বাসায় না থাকায় তিনি একা থাকার সুযোগে আত্মহত্যা করেছেন।
ওসি মো. সোহেল রানা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এএসআই শাহিনুর ইসলাম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।