তাসবিহে ফাতেমি: আমলের পদ্ধতি ও ফজিলত
ছবি: সংগৃহীত
দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তির মাঝে মানসিক প্রশান্তি পেতে ‘তাসবিহে ফাতেমি’ মুমিনের জন্য এক কার্যকর আমল। এটি স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর কন্যা হজরত ফাতিমা (রা.)-কে শিখিয়েছিলেন। আধ্যাত্মিক প্রশান্তির পাশাপাশি এটি শারীরিক ও মানসিক শক্তি লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।
প্রেক্ষাপট ও হাদিসের বর্ণনা
হাদিস থেকে জানা যায়, হজরত ফাতিমা (রা.) নিজ হাতে সংসারের সব কাজ করতেন। যাঁতা পেষার কারণে তাঁর হাতে ফোস্কা পড়ে গিয়েছিল। একদা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কাছে কিছু দাস-দাসী এলে হজরত ফাতিমা (রা.) একজন খাদেম চাইতে যান। কিন্তু লজ্জায় তিনি সরাসরি কিছু বলতে না পেরে হজরত আয়েশা (রা.)-কে বলে ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (স.) বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর তাঁদের ঘরে যান এবং বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না, যা তোমাদের জন্য একজন খাদেমের চেয়েও উত্তম?’ এরপর তিনি বলেন, তোমরা যখন ঘুমানোর উদ্দেশে বিছানায় যাবে তখন ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার’ তেত্রিশবার ‘সুবহানাল্লাহ’ তেত্রিশবার ‘আল হামদুলিল্লাহ’ পড়ে নিবে। এটা খাদিম অপেক্ষা উত্তম।’ (সহিহ বুখারি: ৩৭০৫)
আমলের সঠিক পদ্ধতি
১. রাতে বিশ্রামের উদ্দেশ্যে বিছানায় যাওয়ার পর ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, ৩৩ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবর’
২. প্রত্যেক ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ ৩৩ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ৩৩ বার ‘আল্লাহু আকবার’ এবং ১০০ পূর্ণ করতে একবার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ পাঠ করা। (সহিহ মুসলিম: ৫৯৭)
ফজিলত
দলিল ও হাদিসের আলোকে এই আমলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে-
শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি: রাসুল (স.) এই আমলকে খাদেমের চেয়েও উত্তম বলেছেন। অর্থাৎ এর বরকতে আল্লাহ তাআলা কাজে বিশেষ শক্তি ও সহজতা দান করেন।
গুনাহ মাফ: সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, নামাজের পর এই তাসবিহ নিয়মিত পাঠ করলে সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ গুনাহ থাকলেও তা ক্ষমা করা হয়।
অবিচলতা: হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘যেদিন থেকে নবীজি আমাকে এই আমল শিখিয়েছেন, সিফফিনের যুদ্ধের চরম উত্তেজনার রাতেও আমি তা পাঠ করতে ভুলিনি।’ (সহিহ বুখারি)
তাকদিরে সন্তুষ্টি: এই জিকির বান্দাকে আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকতে সাহায্য করে, যা মানসিক অস্থিরতা কমাতে সহায়ক।
তাসবিহে ফাতেমি কেবল একটি জিকির নয়, এটি সুন্নাহর এক অনন্য উপহার। যারা পরিশ্রম ও ব্যস্ততায় ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তাঁদের জন্য নবীজির শিখিয়ে দেওয়া এই ক্ষুদ্র আমলটি হতে পারে বরকতময় শক্তির উৎস। নিয়মিত এই জিকির মুমিনের জীবনে বরকত, শক্তি ও প্রশান্তি এনে দিতে পারে।