বিজয়ী হলে পরাজিত প্রার্থীদের পরামর্শ নিয়েই কাজ করবো : সানজিদা তুলি

বিজয়ী হলে পরাজিত প্রার্থীদের পরামর্শ নিয়েই কাজ করবো : সানজিদা তুলি

সংগৃহীত ছবি

ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, ‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি বলেছেন, জনগণের ভোটে যদি আমি নির্বাচিত হই, তাহলে আমার সঙ্গে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন—সকল প্রার্থীকেই পাশে নিয়ে কাজ করবো। তাদের মূল্যবান পরামর্শ গ্রহণ করে একটি অংশগ্রহণমূলক ও সমন্বিত উন্নয়ন মডেল গড়ে তুলতে চাই।

রবিবার দুপুর থেকে দিনব্যাপী ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। তুলি বলেন, রাজনীতি প্রতিহিংসার নয়, সেবার। আমি প্রতিটি ওয়ার্ডে অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স স্থাপন করবো, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যা, অভিযোগ ও মতামত জানাতে পারেন। আমার কোনো ভুল হলে এলাকাবাসী যেন আমাকে সংশোধন করার সুযোগ পান।

পরিবেশ ও পর্যটনভিত্তিক উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে  তিনি বলেন, ঢাকা–১৪ এলাকায় জাতীয় উদ্যান ও জাতীয় চিড়িয়াখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব সম্পদ সংরক্ষণ করে রাজস্ব আয় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।

তার ভাষায়, পরিবেশ ও পশুপাখি সংরক্ষণ করে ইকো-ট্যুরিজম ও স্থানীয় উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা গেলে কর্মসংস্থান বাড়বে, বেকারত্ব কমবে। এতে সমাজ থেকে সন্ত্রাস ও মাদক অনেকাংশে দূর হবে।

নির্বাচিত হলে যুব ও নারীদের ক্ষমতায়নে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বেকার যুবকদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও নারীদের জন্য ১০০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি। আত্মকর্মসংস্থান ও নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারলে একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি দেশ শক্তিশালী হয়।

প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এতো রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে নিজেদের স্বার্থে ধ্বংস করা যায় না। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। দিনশেষে আমরা সবাই ভাই-বোন। ঐক্যবদ্ধ হলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আমার পাশে থাকেন। একবার বোনকে সুযোগ দিন। ইনশাআল্লাহ ঢাকা–১৪ আসনের চেহারা বদলে দেবো।

গণসংযোগকালে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পুরো এলাকা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। স্থানীয় ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময়, সমস্যা শোনা এবং ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনার মাধ্যমে দিনব্যাপী গণসংযোগ শেষ করেন সানজিদা ইসলাম তুলি।